কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌরসভার তেবাড়িয়া ও আগ্রাকুণ্ডা এলাকার বাসিন্দারা গড়াই নদীর তীব্র ভাঙনের কারণে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। নদীর ধার ক্রমশ ক্ষয় হওয়ায় বসতবাড়ি ও ফসলি জমি হারানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, নদীর পানি কমলেও এবার নদীর মাঝখানে চর সৃষ্টি হওয়ায় মূল স্রোত পাড় ঘেঁষে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে নদীপাড় ধসে পড়ছে। মৃত সেকেন্দার আলীর স্ত্রী মদিনা খাতুন (৬২) জানান, ‘কিছুক্ষণ পর পরই পাড় ধপাস করে পড়ছে; কখন যে ঘর ভেঙে যায় সেই ভয়ে আছি।’
তেবাড়িয়া শহীদ গোলাম কিবরিয়া সেতু থেকে আগ্রাকুণ্ডা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় কোনো বাঁধ না থাকার কারণে গত এক সপ্তাহে প্রায় ৩০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে অন্তত ৫০ বিঘা জমি ও প্রায় ৩০০ পরিবার ঝুঁকিতে রয়েছে।
কৃষক ছেইমান শেখ বলেন, ‘বহু বছর পর এমন ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফসলসহ ৩০ বিঘা জমি নদীতে চলে গেছে। এখন বসতবাড়ি নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছি।’ তেবাড়িয়া চা বিক্রেতা সমীর চাকী ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি মোশাররফ হোসেনও দ্রুত পাকা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে ভাঙন রোধ বা বাঁধ নির্মাণের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই; বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, ভাঙনের বিষয়ে তিনি অবগত হয়েছেন এবং পাউবোর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংক্ষিপ্ত সুপারিশ:
-
নদীর ভাঙনরোধে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা।
-
বিপন্ন এলাকার পরিবার ও ফসল রক্ষা করতে অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ।
-
স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বিত পর্যবেক্ষণ ও জরিপ।


