বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬

আবদুর রবের দাবি: পাকিস্তানকে এক রাষ্ট্র রাখার চেষ্টা করেছিলেন শেখ মুজিব

পাঠক প্রিয়

অনলাইন ডেস্ক 

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) নেতা আ. স. ম. আবদুর রবের একটি পুরনো সাক্ষাৎকারের ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পরও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ পাকিস্তানকে এক রাষ্ট্র হিসেবে বজায় রাখার চেষ্টা করছিলেন।

সাক্ষাৎকারে আবদুর রব বলেন, নির্বাচনের পর শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলি ভুট্টোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই আলোচনার উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানকে এক রাষ্ট্র হিসেবে টিকিয়ে রাখা।

তবে তিনি দাবি করেন, সে সময় ছাত্রসমাজ, যুবসমাজ এবং স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াস সক্রিয়ভাবে কাজ করেছিল যাতে কোনোভাবেই পাকিস্তান রাষ্ট্র কাঠামো বজায় রাখার উদ্যোগ সফল না হয়।

ভিডিওতে রব বলেন, ৭ মার্চের আগে তিনি পল্টন ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে স্বাধীন বাংলার পতাকা তুলে দেন। তবে তখন মুজিব নাকি বলেন, “এটা অনেক বেশি অ্যাডভান্স, ইটস টু আরলি।”

রবের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি তখন শেখ মুজিবকে জানান যে এটাই সঠিক সময়।

তিনি আরও বলেন, সেদিন রাত ১১টার দিকে ধানমন্ডির বাসভবনে শেখ মুজিবের সঙ্গে দেখা করে তাকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়— পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধান বা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকা এবং পাকিস্তানি নেতৃত্বের সঙ্গে আপস করার চেষ্টা দেশের মানুষ মেনে নেবে না।

আবদুর রবের দাবি, ২৫ মার্চ ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় শেখ মুজিবের গাড়িতে জোর করে স্বাধীন বাংলার পতাকা লাগানো হয়েছিল। পরবর্তীতে ইয়াহিয়ার সঙ্গে আলোচনায় পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার, আলাদা মুদ্রা চালু এবং পৃথক ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালুর মতো বিষয়ও উত্থাপিত হয়েছিল বলে জানান তিনি।

সাক্ষাৎকারে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ের রাজনীতি নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন জাসদ নেতা। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধি পায় এবং বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়।

রবের অভিযোগ, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য হাজার হাজার রাজনৈতিক কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে এবং জাসদের প্রায় ১০ হাজার কর্মীকে কারাবন্দি করা হয়। তিনি আরও দাবি করেন, কর্নেল আবু তাহেরের ভাই মোশাররফ হোসেন ও গণবাহিনীর নেতা সিরাজ শিকদারকে হত্যা করা হয়েছিল।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় দেশে সাংবাদিকতা ও মৌলিক অধিকারও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ছিল এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তবে আবদুর রবের এসব বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ভিন্নমত রয়েছে। ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের অনেকেই মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক আলোচনা ছিল তৎকালীন জটিল পরিস্থিতির অংশ এবং তা স্বাধীনতার কৌশলগত প্রক্রিয়ার মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত ছিল।

সর্বশেষ সংবাদ

‘সার্ভিস’ শব্দের বিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু কী মানুষের মুক্তি ঘটেছে?

সুফি সাগর সামস্ ভাষা, ক্ষমতা ও মানবমর্যাদা নিয়ে একটি পুনর্বিবেচনা সভ্যতার ইতিহাসে শব্দ কখনো কেবল শব্দ নয়; তারা একটি যুগের সামাজিক...

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, জরুরি সংবাদ সম্মেলন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা, শুক্রবার: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। ইতোমধ্যে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের...

মানবমস্তিষ্ক: মহাবিশ্বের ভেতর আরেক মহাবিশ্ব

সুফি সাগর সামস্ মহাবিশ্বের সবচেয়ে বিস্ময়কর সৃষ্টি কি কোনো নক্ষত্র, গ্যালাক্সি বা কৃষ্ণগহ্বর? হয়তো নয়। হয়তো সবচেয়ে বিস্ময়কর কাঠামো হলো মানবমস্তিষ্ক—কারণ এই ক্ষুদ্র জৈবিক অঙ্গই সমগ্র মহাবিশ্বকে...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হারিয়ে গেলে স্বাধীনতার মূল্যবোধও হারাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখা না গেলে একসময় স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্যবোধও হারিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ...

এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না : ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সুশৃঙ্খল করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের লক্ষ্যে একগুচ্ছ প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে...

জনপ্রিয় সংবাদ