নিজস্ব প্রতিবেদক : বি
গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কোনো কর্মকর্তাকে আসন্ন নির্বাচনে না রাখার ঘোষণা দিয়েও শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। জানা গেছে, অন্তত দুজন কর্মকর্তাকে জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাঁরা আগের নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার (এআরও) দায়িত্বে ছিলেন।
সরকার গঠনের পরপরই অন্তর্বর্তী সরকারের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, নির্বাচনে নিরপেক্ষতা ও জনআস্থা নিশ্চিত করতে আগের তিনটি জাতীয় নির্বাচনে যুক্ত থাকা কোনো কর্মকর্তা বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে এবার দায়িত্বে রাখা হবে না। কিন্তু সাম্প্রতিক নিয়োগে দেখা যাচ্ছে, সেই নীতির ব্যত্যয় ঘটেছে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, নবনিযুক্ত দুজন ডিসি ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে এআরও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁরা প্রশাসনের নিয়মিত প্রক্রিয়ায় বদলি হয়েছেন বলে ব্যাখ্যা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তবে সমালোচকরা বলছেন, আগের নির্বাচনে যুক্ত কর্মকর্তাদের মাঠ প্রশাসনে রাখা নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “নীতিগতভাবে আমরা আগের নির্বাচনে যুক্ত কাউকে দায়িত্বে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসনিক বাস্তবতায় কিছু ব্যতিক্রম ঘটেছে।”
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি কমিশনের নজরে এসেছে এবং প্রয়োজন হলে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগের নির্বাচনে বিতর্কিত ভূমিকা থাকা কর্মকর্তাদের পুনরায় দায়িত্বে রাখা অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষিত নিরপেক্ষতার অঙ্গীকারকে দুর্বল করতে পারে।


