নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, ৪ মার্চ ২০২৬ — শিল্পগোষ্ঠী হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদের নেতৃত্বে জাল-জালিয়াতি ও অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ৪,৫০০ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগটি বুধবার সেগুনবাগিচাস্থ দুদকের প্রধান কার্যালয়ে চেয়ারম্যান বরাবরে দাখিল করা হয়।
অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ১৯৯৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের মাধ্যমে আমদানীকৃত বিভিন্ন পণ্যের ইনভয়েস, প্যাকিং লিস্ট, এলসি, এলসিএ, প্রফরমা ইনভয়েস, সিও ও বিল অব লেডিংসহ নথিপত্রে জালিয়াতির মাধ্যমে পণ্য খালাস করা হয়েছে। অ্যাসেসমেন্ট নোটিশ বিল অব এন্ট্রিতে উল্লেখিত তথ্যের সঙ্গে প্রকৃত এইচএস কোড, সিপিসি, গ্রস ওয়েট (GW) ও নেট ওয়েট (NW)-এর অসামঞ্জস্য দেখিয়ে কম শুল্কে পণ্য ছাড়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।
টাইমস মিডিয়া লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৮০ কোটি টাকার অভিযোগ
অভিযোগে বলা হয়, টাইমস মিডিয়া লিমিটেড ‘নিউজপ্রিন্ট পেপার’ (HS Code: 4801.00.00) আমদানির ক্ষেত্রে ৫৮.৬০ শতাংশ মোট শুল্ক প্রযোজ্য থাকা সত্ত্বেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব কম জমা দিয়ে পণ্য খালাস করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, যেখানে একটি চালানে প্রায় ৬৩ লাখ টাকা শুল্ক পরিশোধের কথা, সেখানে ১১ লাখ টাকা জমা দিয়ে পণ্য ছাড় নেওয়া হয়। প্রতি নথিতে গড়ে ৫২ লাখ টাকা ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এভাবে শতাধিক নথির মাধ্যমে প্রায় ৮০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারী আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশন এর প্রধান উপদেষ্টা সুফি সাগর সামস্ তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
দ্যাটস ইট নিট লিমিটেডের বিরুদ্ধে ১২০ কোটি টাকার অভিযোগ
দ্যাটস ইট নিট লিমিটেড ‘স্টেইনলেস স্টিল বিল্ডিং (ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেকিং সিস্টেম)’ আমদানির ক্ষেত্রে এইচএস কোড, সিপিসি ও ওজন সংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তন করে কম শুল্কে পণ্য ছাড় নিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আনুমানিক ১২০ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
বন্ড সুবিধার অপব্যবহারে ৪,৩০০ কোটি টাকার অভিযোগ
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হা-মীম গ্রুপের অধীনস্থ একাধিক প্রতিষ্ঠান বন্ড কমিশনের মাধ্যমে কেমিক্যাল, ডাইস, পিপি, এলডিপিই, এলএলডিপিই, মিডিয়াম পেপার ও ক্রাফট লাইনার পেপার আমদানি করে প্রাপ্যতার অতিরিক্ত শত শত মেট্রিক টন পণ্য খালাস করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এটি চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজে নজিরবিহীন ঘটনা।
এ খাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আনুমানিক ৪,৩০০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ আনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো হলো:
১. টাইমস মিডিয়া লিমিটেড
২. দ্যাটস ইট নিট লিমিটেড
৩. মর্ডান ওয়াশিং অ্যান্ড ডাইং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড
৪. সাজিদ ওয়াশিং অ্যান্ড ডাইং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড
৫. দ্যাটস ইট প্যাকেজিং লিমিটেড
৬. সাকিব পলি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড
৭. হা-মীম ওয়াশিং লিমিটেড
৮. হা-মীম ডেনিম লিমিটেড
এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় ঢাকার তেজগাঁও শিল্প এলাকায় অবস্থিত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংস্থার নাম উল্লেখ
অভিযোগে বলা হয়েছে, হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদ ও চেয়ারম্যান এম. এ. মোতালেবের নেতৃত্বে সিএন্ডএফ এজেন্ট, কাস্টমস কর্মকর্তা ও জেটি সরকারের সঙ্গে যোগসাজশে এ অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। তিনটি সিএন্ডএফ এজেন্টের নামও উল্লেখ করা হয়েছে—বিশাল ট্রেডিং, ইন্টিমেট ক্লিয়ারিং সিন্ডিকেট এবং রিফাত গার্মেন্টস লিমিটেড (সেল্ফ)।
অভিযোগকারী দাবি করেছেন, কাস্টমস হাউজ থেকে মূল নথি ও ফাইল সরিয়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে, যা তদন্তের মাধ্যমে উদ্ধার করা সম্ভব।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


