অনলাইন ডেস্ক

সারাদেশে সড়ক ও মহাসড়কে চাঁদাবাজির ব্যাপক অভিযোগ পাওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন। হাইওয়ে পুলিশ জানায়, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে বর্তমানে তিন শতাধিক হাইওয়ে পুলিশ সদস্যকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের নজরদারি চলছে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী চালক, পরিবহন শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আসা অভিযোগগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের গোয়েন্দা দল বিভিন্ন স্পটে নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহ করছে।
চাঁদাবাজির অভিযোগে মিলেছে প্রমাণ
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সড়ক-মহাসড়কে পরিবহন চলাচলের সময় বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা আদায়ের ঘটনা সত্য বলে প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।
সম্প্রতি রুহুল আমিন নামে এক ট্রাকচালক জানান, নওগাঁ থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বেগুন পৌঁছে দিতে গিয়ে তাকে মোট ২ হাজার ৭৫০ টাকা চাঁদা দিতে হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী—
-
হাইওয়ে পুলিশ,
-
ট্রাফিক পুলিশ,
-
বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার নাম ভাঙানো লোকজন,
-
এবং বিভিন্ন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের কর্মী
নানা অজুহাতে এই টাকা আদায় করেছে।
ট্রাকচালকের দাবি, চাঁদা না দিলে অনেক সময় গাড়ি থামিয়ে হয়রানি করা হয়, মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে দেরি হয়।
পুলিশের কঠোর অবস্থান
হাইওয়ে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে কয়েকজনকে শোকজ করা হয়েছে, কিছুজনকে দায়িত্ব বদলিও করা হয়েছে।
গোয়েন্দা নজরদারির তথ্য-প্রমাণ মিললেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এক কর্মকর্তা বলেন,
“চাঁদাবাজিতে যেই জড়িত থাকুক—পুলিশ সদস্য, রাজনৈতিক কর্মী বা অন্য কেউ—প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভুক্তভোগীদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে
চাঁদাবাজির মতো ঘটনা বন্ধে পুলিশ ভুক্তভোগী চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য, ভিডিও বা নম্বরপ্লেটসহ অভিযোগ জানানোর অনুরোধ করেছে। অভিযোগ গোপন রাখারও আশ্বাস দিয়েছে তারা।


