নিজস্ব প্রতিবেদক

হঠাৎ করেই দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়—সুপ্রিম কোর্টে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার থেকে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের এজলাসে আইনজীবী ছাড়া অন্য কারও প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সব ধরনের অস্ত্র, বিস্ফোরক, মাদকদ্রব্য বহন এবং যেকোনো সমাবেশ ও মিছিল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
কী বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে
রবিবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্ট দেশের বিচার অঙ্গনের সর্বোচ্চ ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এখানে নিয়মিত প্রধান বিচারপতি ও উভয় বিভাগের বিচারপতিরা বিচারকার্য পরিচালনা করেন। তাই এই প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয়ভাবে অত্যন্ত জরুরি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা গেছে—কিছু বিচারপ্রার্থী, মামলা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং অপ্রত্যাশিত লোকজন এজলাস কক্ষে প্রবেশ করছেন। এতে আদালতের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে এবং বিচারপতি, আইনজীবী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত এখন
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা, উচ্চপ্রোফাইল মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সাম্প্রতিক কিছু নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের প্রেক্ষাপটেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে। বিশেষ করে আদালত প্রাঙ্গণে অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ ও আচরণ বিচারকার্যের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছিল।
একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“আদালতের এজলাস কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত ক্ষোভ প্রকাশের জায়গা নয়। নিরাপত্তা জোরদার করা হলে বিচারকার্য আরও নির্বিঘ্ন হবে।”
বিচারপ্রার্থীদের জন্য কী পরিবর্তন
নতুন ব্যবস্থায় বিচারপ্রার্থীদের সরাসরি এজলাসে প্রবেশ সীমিত হবে। আইনজীবীর মাধ্যমেই মূলত মামলার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রয়োজনে আদালতের নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিতভাবে প্রবেশের সুযোগ থাকতে পারে—তবে তা আগের মতো উন্মুক্ত নয়।
স্বাধীন বিচার ও নিরাপত্তার ভারসাম্য
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন নিরাপত্তা জোরদার হবে, অন্যদিকে বিচারপ্রার্থীদের সরাসরি উপস্থিতির সুযোগ সীমিত হওয়ায় স্বচ্ছতা ও প্রবেশাধিকারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসতে পারে। তবে আদালতের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে অগ্রাধিকার দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
সামনে কী
৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় এর মেয়াদ বাড়ানো বা শিথিল—দুটোই হতে পারে। আপাতত সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রিত প্রবেশই বাস্তবতা।
সব মিলিয়ে, দেশের বিচার ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে নিরাপত্তা নিয়ে এই কঠোর অবস্থান বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতারই প্রতিফলন—যেখানে বিচারকার্যের স্বাধীনতা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ।


