ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) জাতীয় নারী ফুটবল দল থেকে অধিনায়ক সাবিনা খাতুনসহ আরও কয়েকজন সিনিয়র ফুটবলারকে নতুন চুক্তির তালিকার বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি ঘিরে ফুটবল অঙ্গনে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ নারী দল অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ধারণা করা হচ্ছিল, সাবিনা খাতুনসহ সিনিয়র খেলোয়াড়দের আবার জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাকা হতে পারে। বিশেষ করে মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান কাপ চূড়ান্ত পর্ব সামনে রেখে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের দলে ফেরানোর সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছিল।
তবে ফুটসাল শিরোপা জয়ের দুই দিনের মাথায় এশিয়ান কাপের প্রস্তুতির জন্য ২৯ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করে বাফুফে। সেই তালিকায় সাবিনা খাতুন ও মাসুরা পারভিনের নাম না থাকায় শুরু হয় আলোচনা। যদিও বাফুফে সূত্রে তখন বলা হয়েছিল, প্রাথমিক তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে এবং সিনিয়রদের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
কোচ পিটার বাটলারও প্রাথমিক স্কোয়াড নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন বলে জানা যায়। ফলে ধারণা করা হচ্ছিল, টানা দুইবার সাফ জয়ী দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ক্যাম্পে ডাকা হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, জাতীয় দলে ফেরার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে কয়েকজন সিনিয়র ফুটবলারের জন্য।
ফুটবলারদের আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয় গত ৩১ জানুয়ারি। নতুন করে জানুয়ারিতেই চুক্তি নবায়নের কথা থাকলেও তা হয়নি। এখন ৩০ জন খেলোয়াড়ের সঙ্গে নতুন চুক্তি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাফুফে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এবার নারী ফুটবলারদের বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে নতুন চুক্তির তালিকায় রাখা হয়নি সাবিনা খাতুন, মাসুরা পারভিন, কৃষ্ণারাণী সরকার, মাতসুসিমা সুমাইয়া, সানজিদা খাতুন ও নীলুফার ইয়াসমিনকে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা স্বাভাবিক। তবে সাবিনা ও অন্যান্য সিনিয়রদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও অভিজ্ঞতা বিবেচনায় তাদের পুরোপুরি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
ফুটসাল ও বড় মাঠের ফুটবল আলাদা হলেও, খেলোয়াড়দের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা জাতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই। বিশেষ করে সাবিনা খাতুনকে বাংলাদেশের নারী ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়ক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এশিয়ান কাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের আগে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত দলীয় পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ফুটবল সংশ্লিষ্ট অনেকেই।
এ বিষয়ে বাফুফের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। তবে ফুটবল অঙ্গনে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।


