অনলাইন ডেস্ক

দেশের হয়ে বিশ্বকাপে খেলা যেকোনো ক্রিকেটারের জন্যই স্বপ্নের মতো। আর সেটি যদি হয় নিজের প্রথম বিশ্বকাপ, তাহলে সেই আনন্দের পরিমাণ থাকে আকাশছোঁয়া। তবে বিশ্বকাপ দলে নাম থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামতে না পারার কষ্ট যে কতটা গভীর হতে পারে, তা সম্প্রতি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ওপেনার সাইফ হাসান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করেন ডানহাতি এই ব্যাটার। নিজের অফিসিয়াল পেজে কয়েকটি ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ মেহেরবান, আলহামদুলিল্লাহ।”
পোস্টে তিনি আরও লেখেন, “আমার প্রথম বিশ্বকাপে খেলতে না পারার হৃদয়ভাঙা কষ্ট থেকে ফিরে আসা সহজ ছিল না। এটা ছিল জীবনের একটি স্বপ্ন, যার পেছনে ছিল অনেক পরিশ্রম ও ত্যাগ। আমি নিশ্চিত, আল্লাহ সবার জন্যই আরও ভালো কিছু পরিকল্পনা করে রেখেছেন। কারণ তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ পরিকল্পনাকারী। সেখান থেকে নিজেকে সামলে নেওয়াটা আমার জন্য সহজ ছিল না। তবে সেই কঠিন সময়ে যারা আমাকে মানসিকভাবে সমর্থন দিয়েছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।”
বিশ্বকাপে না খেলতে পারার হতাশা যে তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল, সেটির ইঙ্গিত দিয়েছেন জাতীয় দলের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনও। তিনি জানান, বিশ্বকাপ মিস করার পর দুই ক্রিকেটার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
সালাউদ্দিন বলেন, “আমি তো জানি আমার দুইটা খেলোয়াড় প্রায় কোমাতে চলে গেছিল। পাঁচ দিন ধরে কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিল তারা। আমরা তাদের (অদম্য কাপ) টুর্নামেন্টে মাঠে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি—ওটাই বেশি। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য। যে সে মাঠে আসছে এবং এসে আবার রান করেছে।”
ধারণা করা হচ্ছে, সেই দুই ক্রিকেটারের একজন ছিলেন সাইফ হাসান। কঠিন মানসিক অবস্থা কাটিয়ে আবার মাঠে ফেরা এবং রান পাওয়া—এটাই এখন তার নতুন শুরুর গল্প।
বিশ্বকাপের স্বপ্ন ভেঙে গেলেও থেমে থাকেননি সাইফ। বরং বিশ্বাস, পরিশ্রম ও মানসিক দৃঢ়তাকে সঙ্গী করে তিনি আবারও নিজেকে প্রমাণের পথে হাঁটছেন। জাতীয় দলে নিয়মিত জায়গা করে নেওয়া এবং ভবিষ্যতের বড় আসরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করাই এখন তার সামনে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।


