নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারসহ বিভিন্ন সংবাদ প্রতিষ্ঠান এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। একই সঙ্গে তিনি আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত না হয়ে নিয়মতান্ত্রিক ও দায়িত্বশীল কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে শাহবাগ থেকে একদল বিক্ষোভকারী দৈনিক ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর কার্যালয়ে হামলা চালায়। এ সময় ডেইলি স্টার ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে এবং কয়েকজন সাংবাদিক ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন বলে জানা যায়।
বিক্ষোভ সমাবেশে মাহফুজ আলম বলেন, “সাংবাদিকদের উদ্ধার করুন। সরকারকে আহ্বান করছি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ করছি—এই সাংবাদিক ও মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে রক্ষা করুন। আমরা অন্তর্ঘাতের মাধ্যমে এই আন্দোলন অন্যদিকে যেতে দেব না।”
তিনি আরও বলেন, যারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। “আমরা খুবই স্পষ্ট—আমরা কী চাই, কীভাবে চাই এবং কখন চাই। আমাদের দাবির বিষয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই। কোনো ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডে কেউ যেন সায় না দেন,”—বলেন তিনি।
মাহফুজ আলম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সকলের দায়িত্ব। “বাংলাদেশসহ সারা দুনিয়া জানুক—আমরা একটি নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমেই আমাদের দাবি আদায় করতে পারি,”—যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে আরও অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা থাকতে পারে। কোনো ধর্মীয় স্থাপনা বা গণমাধ্যমসহ স্পর্শকাতর স্থানে হামলার চেষ্টা হলে দেশের সকল নাগরিককে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
মাহফুজ আলম বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে থাকা সৈনিক শরিফ ওসমান হাদির স্মৃতিকে ধারণ করে এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমেই তা আরও বেগবান করা হবে।


