কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জ, শনিবার: কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম বৃহত্তম জামাত। লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে সকাল থেকেই পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
জামাত সকাল ১০টায় শুরু হয়। ইমামতি করেন মুফতি আবুল খায়ের মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। নামাজ শেষে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।
শোলাকিয়া ঈদগাহের রেওয়াজ অনুযায়ী জামাত শুরুর আগে শটগানের গুলি ছুড়ে সংকেত দেওয়া হয়। ভোর থেকেই মুসল্লিরা ময়দানে ভিড় করতে শুরু করেন। সকাল ৯টার মধ্যেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়, তারপরও অনেক মুসল্লি পাশে সড়ক, সেতু, বহুতল ভবনের ছাদ এবং অলিগলিতে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মুসল্লিরা ঈদের দু-একদিন আগেই এসে অবস্থান নেন।
মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও ভৈরব রুটে দুটি বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়।
শান্তিপূর্ণ জামাত সম্পন্ন করতে প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। চার স্তরের নিরাপত্তা বলয়ের পাশাপাশি ড্রোন, বাইনোকুলার, সিসি ক্যামেরা ও ছয়টি ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হয়। নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করেন সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, বিপুল সংখ্যক পুলিশ, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। মাঠে মেডিকেল টিমসহ দুটি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট প্রস্তুত ছিল। এছাড়া বিএনসিসি ও স্কাউটস সদস্যরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৭ জুলাই শোলাকিয়া ঈদগাহ সংলগ্ন আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের চেকপোস্টে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এরপর থেকেই এখানে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এই বছরের জামাতে উপস্থিত ছিলেন শরীফুল আলম, মাজহারুল ইসলাম, খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, ডক্টর এস এম ফরহাদ হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
জামাতের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও বহুলসংখ্যক মুসল্লির অংশগ্রহণ কিশোরগঞ্জের ধর্মীয় ঐতিহ্যের বহুমাত্রিক ছাপ ফুটিয়ে তুলেছে।


