
বিশেষ প্রতিবেদক : শেরপুরের শ্রীবরদি উপজেলার বালিজুড়ি এলাকায় সকাল থেকেই অস্বাভাবিক ভিড় দেখা যায় বন বিভাগের রেঞ্জ অফিসের পেছনের বনে। এই ভিড় দর্শনার্থীর নয়—বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের। লক্ষ্য একটাই: বনে আশ্রয় নেওয়া বন্য হাতির পালকে উত্ত্যক্ত করে ভিডিও ধারণ করা এবং সেটিকে অনলাইনে ‘ভাইরাল’ করা।
হাতিকে উসকানি দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে নিয়মিতভাবেই কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটর বনে ঢুকে হাতির চলাচলের পথে দাঁড়িয়ে থাকে। কেউ কেউ চিৎকার–চেঁচামেচি করে হাতিকে ক্ষিপ্ত করার চেষ্টা করে, আবার কেউ নিরাপদ দূরত্ব ভুলে অত্যন্ত কাছে গিয়ে ভিডিও করতে থাকে। এতে হাতিরা বারবার উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং দৌড়ঝাঁপ করে।
বনের কর্মকর্তারা জানান, হাতির স্বভাব শান্ত হলেও উত্ত্যক্ত করা হলে তারা খুব দ্রুত আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। এতে ভিডিও করতে আসা ব্যক্তিদের জীবন যেমন ঝুঁকিতে পড়ে, তেমনি হাতিরও অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি হয়।
বনে মানুষের ভিড়ে বিপন্ন বন্যপ্রাণী
বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, বনে মানুষের অনিয়ন্ত্রিত ভিড়ের কারণে হাতির স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। হাতির পাল বন থেকে বেরিয়ে এসে গ্রামাঞ্চলের দিকে চলে যেতে পারে, এতে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে।
শ্রীবরদি রেঞ্জের এক কর্মকর্তা বলেন,
“অনেকেই রিস্ক নিয়ে ভিডিও করতে আসছেন। আমরা বারবার সতর্ক করলেও শোনেন না। হাতিকে উত্ত্যক্ত করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ—এটি অনেকেই বুঝতে চান না।”
স্থানীয়দের উদ্বেগ
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রামের লোকজন বলছেন, বনে মানুষের ভিড় বাড়লে হাতিরা ভয় পেয়ে গ্রামে ঢুকে পড়তে পারে। এর আগেও হাতির তাড়া খেয়ে কয়েকজন আহত হয়েছিলেন বলে তারা জানান।
এক স্থানীয় কৃষক বলেন, “ওরা শুধু ভিউয়ের জন্য হাতির কাছে যায়। কিন্তু হাতি একবার তেড়ে এলে তাদের কিছু হলে দায় নেবে কে? আর হাতি ভয় পেয়ে যদি গ্রামে নেমে আসে, ক্ষতি হবে আমাদেরই।”
আইন ও নিয়ন্ত্রণের দাবি
বন বিভাগ জানিয়েছে, বন্য প্রাণীকে উত্ত্যক্ত করা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে অপরাধ। প্রয়োজনীয় হলে আইন প্রয়োগ করে এই অনিয়ন্ত্রিত ভিডিও–তোলার প্রবণতা বন্ধ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, বালিজুড়ি বনে কঠোর নজরদারি, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কনটেন্ট তৈরির নামে বন্যপ্রাণীর ক্ষতি রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।


