নিজস্ব প্রতিবেদক

শুল্ক কমানোর ঘোষণা ছিল স্বস্তির বার্তা। কিন্তু বাস্তবে তার সুফল মিলছে না বাজারে। রমজানকে সামনে রেখে খেজুরের চাহিদা বাড়লেও দাম কমার বদলে বেড়েছে—ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ পড়েছেন বিপাকে।
সরকার দেশের মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনায় খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করেছে, যা ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। কিন্তু শুল্ক ছাড়ের পরও বাজারে দামের প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ ভোক্তাদের।
ইরাকি খেজুরে সবচেয়ে বেশি চাপ
কয়েক দিন আগেও ইরাকি খেজুর পাইকারি বিক্রি হতো কেজি ১৫০ টাকায়। বর্তমানে সেই খেজুর ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১০ কেজির কার্টনের দাম ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৪০০ টাকা।
খেজুর আমদানিকারক ও বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানান, থাইল্যান্ড উপকূলে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন ইরাকি খেজুরবাহী একটি জাহাজ ডুবে যাওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর-এ চার দিনের কর্মবিরতির ফলে জাহাজ জট সৃষ্টি হয়ে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে জনপ্রিয় ইরাকি খেজুরের সরবরাহ কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিক্রেতাদের অতিরিক্ত মুনাফার প্রবণতাও দামের ঊর্ধ্বগতির পেছনে বড় কারণ। তবে আমদানিকৃত খেজুরের পরিমাণ চাহিদার চেয়ে বেশি হলে রমজান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজার স্থিতিশীল হয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কোন খেজুর কত দামে
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন জাতের খেজুরের বর্তমান খুচরা মূল্য (প্রতি কেজি):
-
বস্তা খেজুর (বাংলা খেজুর): ২২০–২৪০ টাকা
-
জাহিদি: ২৫০–৩০০ টাকা
-
দাবাস: ৫৫০–৬০০ টাকা
-
বরই: ৪৮০–৬৫০ টাকা
-
কালমি: ৭০০–৭৫০ টাকা
-
সুক্কারি: ৮০০–৮৫০ টাকা
-
মাবরুম: ৮৫০–১২০০ টাকা
-
মরিয়ম: ১১০০–১৪০০ টাকা
-
মেডজুল: ১২০০–১৮০০ টাকা
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সৌদি আরব, তিউনিসিয়া বা আরব আমিরাত থেকে আমদানি হওয়া উচ্চমানের খেজুরের দামে তেমন পরিবর্তন নেই। তবে ইরাক থেকে আমদানি হওয়া তুলনামূলক কমদামের খেজুরেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে।
ভোক্তাদের দাবি—বাজারে নজরদারি বাড়াতে হবে
ভোক্তাদের অভিযোগ, শুল্ক কমানোর সুফল ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে না। বাজারে কৃত্রিম সংকট ও অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণে দাম বাড়ছে। তারা রমজানকে সামনে রেখে বাজার মনিটরিং জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
রমজান যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে খেজুরের চাহিদা। এখন দেখার বিষয়—সরকারি শুল্ক ছাড় ও সম্ভাব্য সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার প্রভাব বাজারে কত দ্রুত প্রতিফলিত হয়।


