
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক খুনের ঘটনায় এক নামই ঘুরে–ফিরে আসছে—সন্ত্রাসী মোহাম্মদ রায়হান। শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার মতো ভয়াবহ ঘটনার সাথে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করছে নিহতদের পরিবার। কয়েকটি হত্যা মামলায় তাকে নামীয় আসামি করা হলেও এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, রায়হানকে ধরতে তারা সর্বোচ্চ তৎপরতা চালাচ্ছে।
তবে গ্রেপ্তার এড়িয়ে থেকেও থেমে নেই রায়হানের অপরাধ তৎপরতা। সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার রাতে এক ব্যবসায়ীর মুঠোফোনে চরম প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী ওই ব্যবসায়ী বলেন, রাত সাড়ে দশটার দিকে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে তাকে ফোন করে রায়হান নিজের পরিচয় দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং বলেন, ‘তোকে গুলি করে মারব না, ব্লেড দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মারব।’
হুমকি পাওয়া ওই ব্যবসায়ীর নাম মো. একরাম। তিনি পাথরের ব্যবসা করেন। আজ সকালে তিনি বলেন, গতকাল রাত আটটার দিকে তাঁকে ফোন করেন সন্ত্রাসী রায়হান। পরে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো খুদে বার্তায় তাঁকে ব্লেড দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মারার হুমকি দেন।
ব্যবসায়ী জানান, রায়হানের নাম শুনেই তিনি আতঙ্কে পড়েন, কারণ এর আগেও স্থানীয় কয়েকজনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই খুন করা হয়েছিল। হুমকির ঘটনার পর তিনি কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি করেছেন।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, রায়হানকে ধরতে বিশেষ অভিযান চলছে। তিনি বলেন, “ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগ রয়েছে। নতুন হুমকির বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি।”
স্থানীয়রা বলছেন, রায়হানের তাণ্ডবের কারণে এলাকায় চরম ভীতি বিরাজ করছে। প্রকাশ্যে গুলি করে মানুষ হত্যার পরও তাকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় পুলিশের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রায়হানের অবস্থান শনাক্তে প্রযুক্তিগত নজরদারি বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে। তবে তিনি গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত আতঙ্ক কাটছে না বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।
চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পদশালী ও ব্যবসায়ী শ্রেণি দাবি করেছে, দ্রুত রায়হানকে গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি না করা গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।


