সুফি সাগে সামস্

ভারতবর্ষে উনিশ শতকে হিন্দু ও মুসলমানদের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবন যথেষ্ট ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ছিল। এই পার্থক্যকে কাজে লাগিয়ে ইংরেজ ঔপনিবেশিক সরকার এক বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে। তাদের হাত ধরে ভারতীয় সমাজে ঘনিষ্ঠভাবে “সাম্প্রদায়িকতা” প্রতিষ্ঠিত হয়, যা দেশীয় ঐক্য ও মানবিক মূল্যবোধকে ক্ষুণ্ন করেছে।
ঔপনিবেশিক শাসকরা মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ওয়াহাবি আলেমদের প্রভাব বাড়িয়ে তাদের ভারতীয় ঐতিহ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। একই সময়ে, হিন্দু সম্প্রদায়কে ভারতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রধান ধারার সঙ্গে যুক্ত করে তুলে তাদের মধ্যে গৌরববোধ সৃষ্টি করা হয়। এছাড়া, মুসলিম সম্প্রদায়কে বিভিন্ন বংশীয় পদবী যেমন স্যার, সৈয়দ, চৌধুরী, সরদার, মোল্লা ইত্যাদিতে বিভক্ত করে তাদের মানবিক, ন্যায় ও শিক্ষাগত মূল্যবোধ হ্রাস করা হয়। এর প্রভাব আজও গ্রামাঞ্চলে স্পষ্ট, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ বংশের শক্তি প্রয়োগ করে সংখ্যালঘুদের অধিকার হরণ করা হয়।
ঔপনিবেশিক নীতি ও সাম্প্রদায়িকতার কারণে হিন্দু সমাজ দেশ ও ধর্মকে একত্রিতভাবে দেখার পথে এগিয়েছিল, কিন্তু মুসলিম সম্প্রদায় ধর্মীয় প্রীতির প্রভাবে নিজের জন্মভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আরব-পারস্য ঐতিহ্যকে নিজেদের ইতিহাস মনে করতে শুরু করেছিল। মুঘল ও নবাব শাসনের অবসানের পর উচ্চশ্রেণির মুসলিম সমাজে হতাশা ও ক্ষয় দেখা দেয়, যা ওয়াহাবি আন্দোলনের মাধ্যমে শিক্ষাগত ও সামাজিকভাবে আরও বৃদ্ধি পায়। ফলে মুসলিম সমাজ পিছিয়ে পড়ার মন্ত্র গ্রহণ করে, যা আজও তার প্রভাব ছেড়ে যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঔপনিবেশিক নীতি ও সাম্প্রদায়িকতার ছায়া ভারতবর্ষের জাতীয় ঐক্য, মানবিকতা ও ন্যায়পরায়ণ সমাজের উন্নয়নের পথে এক বৃহৎ অন্তরায় হিসেবে কাজ করেছে। এই প্রভাব এখনও অনেকে বুঝতে ও সমাধান করতে পারছেন না।
সুফি সাগে সামস্
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপি।


