
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় এক বিধবা হিন্দু নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে গাছের সঙ্গে বেঁধে মাথার চুল কেটে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার দুই বখাটের বিরুদ্ধে। শনিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য হলে যোগ করা যাবে) রাতে উপজেলার নদীপাড়া এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে জানা গেছে, নির্যাতনের একপর্যায়ে ওই নারী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে স্থানীয়রা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহিন ও তার সহযোগী হাসান গাছের সঙ্গে বেঁধে চুল কেটে দেওয়ার ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী নারী কালীগঞ্জ থানায় দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করেন, প্রায় আড়াই বছর আগে তিনি কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নদীপাড়া এলাকার শাহিন ও তার ভাইয়ের কাছ থেকে দুইতলা বাড়িসহ তিন শতক জমি ২০ লাখ টাকায় ক্রয় করেন। এরপর থেকেই শাহিন তাকে কু-নজরে দেখত এবং বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতে থাকে। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে নানাভাবে হয়রানি ও হেনস্তার চেষ্টা চালানো হচ্ছিল।
এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় ওই নারীর গ্রামের দুই আত্মীয় তার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এ সময় শাহিন ও তার সহযোগী হাসান বাড়িতে প্রবেশ করে পর্যায়ক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। পরে তারা ভুক্তভোগীর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বেড়াতে আসা দুই আত্মীয়কে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় অভিযুক্তরা।
ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ না করতে চাপ দিলে ওই নারী চিৎকার শুরু করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মাথার চুল কেটে দেয় এবং সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “প্রথমে ওই নারী ঘটনা স্বীকার করতে চাননি। পরে চিকিৎসকদের মাধ্যমে জানা গেছে, তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।”
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন জানান, ভুক্তভোগী নারীকে থানায় ডেকে এনে এজাহার গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


