অনলাইন ডেস্ক

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আগামীকাল মহান বিজয় দিবসে তারা উৎসব নয়, বরং প্রতিরোধের র্যালি করবেন। ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও বাংলাদেশবিরোধী সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা উৎসব করতে রাস্তায় নামব না, আমরা প্রতিরোধের যাত্রায় রাস্তায় নামব।”
সোমবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ইনকিলাব মঞ্চ আয়োজিত এক সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনটির মুখপাত্র ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
সমাবেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, “ভারত যদি মনে করে ৫ আগস্টের পরও তারা আগের মতো বাংলাদেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করবে কিংবা নির্বাচনে কারচুপি করবে, তবে সেই ধারণা ভুল। বাংলাদেশকে সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক রাখতে হবে।”
ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই হামলার মাধ্যমে জুলাই বিপ্লব আক্রান্ত হয়েছে। বাংলাদেশ যতবার আক্রান্ত হয়েছে, তরুণরা ততবারই প্রতিরোধে নেমে এসেছে। আজকের সমাবেশের বার্তা হলো—বাংলাদেশ ও জুলাই বিপ্লবীরা ঐক্যবদ্ধ।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিরোধী দল দমনে ব্যবহৃত হয়েছে এবং গুম-খুনের মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। অথচ ৫ আগস্টের পর সেই সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা হঠাৎ করেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। “৭২ ঘণ্টা পার হলেও একজন অপরাধীকেও গ্রেফতার করা যাচ্ছে না—এই খেলা কোথা থেকে চলছে, সেই ডিপ স্টেট ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন,” বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, এনসিপি একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ চায় এবং গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পক্ষে। তবে যারা জুলাই বিপ্লবকে লক্ষ্য করে মিডিয়া, বিশ্ববিদ্যালয় ও আদালত অঙ্গনে ‘মুজিববাদী রাজনীতি’ পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।


