নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি সমঝোতার রাজনীতি ও ঘোষিত রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রতি ‘প্রত্যাশিত সম্মান ও নিষ্ঠা’ প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়েছে—এমন মন্তব্য করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)। দলটির মতে, এর ফলে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রক্রিয়া আরও জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেএসডি।
শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জেএসডির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব। তিনি বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে ন্যূনতম রাজনৈতিক আস্থা ও পারস্পরিক দায়বদ্ধতা না থাকলে গণতান্ত্রিক রূপান্তর সম্ভব নয়। বিএনপির আচরণ সেই আস্থার সংকটকে আরও গভীর করেছে।
জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন, কিন্তু বাস্তবতায় একক পথ
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন। তিনি শুরুতেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যই সবচেয়ে কার্যকর পথ। তবে বাস্তব রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জেএসডি আসন্ন নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে।
দুটি প্রস্তাব, একটি রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা
সংবাদ সম্মেলনে জেএসডির পক্ষ থেকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়—
প্রথম প্রস্তাব:
প্রচলিত ক্ষমতাকাঠামোর আমূল পরিবর্তন ঘটাতে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান। জেএসডির মতে, বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামো গণতন্ত্র ও জনগণের ক্ষমতায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দ্বিতীয় প্রস্তাব:
নির্বাচনী কৌশলসংক্রান্ত। এতে বলা হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেএসডি ‘অংশীদারত্বের গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে এককভাবে অংশগ্রহণ করবে। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে রাষ্ট্র সংস্কার বা রূপান্তরের পক্ষে থাকা শক্তিগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক মেরুকরণের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার পথও খোলা থাকবে।
রাজনৈতিক বার্তা ও তাৎপর্য
জেএসডির এই অবস্থান মূলত দুইটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দেয়। একদিকে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন বৃহত্তর জোট রাজনীতির ওপর তাদের অনাস্থা প্রকাশ পেয়েছে। অন্যদিকে, তারা নিজেদের একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়—যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রাষ্ট্র সংস্কার ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বিরোধী রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করতে পারে এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে জেএসডির ভূমিকা নতুনভাবে আলোচনায় আনতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম। আরও উপস্থিত ছিলেন জেএসডির স্থায়ী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ সিরাজ মিয়া, কে এম জাবির, সহসভাপতি মাইনুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলালসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।


