নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ – দেশে প্রথমবারের মতো নতুন ধরনের সিন্থেটিক মাদক এমডিএমবি (MDMB)-এর চালান জব্দ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত চার সদস্যের একটি চক্র গ্রেপ্তার হয়েছে, যারা মালয়েশিয়া থেকে মাদক সংগ্রহ করে দেশের যুবসমাজের মধ্যে বিতরণ করছিল।
গ্রেপ্তারকৃতরা
-
খন্দকার তৌকিরুল কবির তামিম – একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র
-
মেহেদী হাসান রাকিব
-
মাসুম মাসফিকুর রহমান ওরফে সাহস – বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেলস ও মার্কেটিং কর্মকর্তা
-
আশরাফুল ইসলাম – ভারতে পড়াশোনা শেষে বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৩৪০ মিলি এমডিএমবি, সিবিডি মিশ্রিত গাঁজার চকলেট, ভেপ ডিভাইস, ই-লিকুইড এবং বিক্রির জন্য প্রস্তুত খালি ক্যানিস্টার জব্দ করা হয়েছে।
অভিযান ও গোয়েন্দা তথ্য
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ জানান, তরুণদের মধ্যে ভেপ এবং ই-সিগারেটের ব্যবহার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। সম্প্রতি এই ডিভাইসে নতুন ধরনের সাইকোঅ্যাকটিভ পদার্থ (NPS) ও ওপিয়েডস মিশিয়ে ব্যবহার করার ঘটনা বেড়েছে।
আইএনসিবি (INCB) এর বিশ্বব্যাপী ‘অপারেশন ই-ভেপর৮’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে অভিযান চালানো হয়। ঢাকার গোয়েন্দা টিম অনলাইন ও অফলাইন, সোশ্যাল মিডিয়া ও ডার্ক ওয়েবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নজরদারি শুরু করে। তামিমকে প্রধান কারবারি হিসেবে শনাক্ত করে এবং ১০ ডিসেম্বর পল্লবীতে ২০ মিলি এমডিএমবি সহ গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর মেহেদী হাসান রাকিবকে মিরপুর থেকে ১০ মিলি এমডিএমবি সহ আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারদের স্বীকারোক্তি এবং প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে এমডিএমবি সরবরাহকারী নেটওয়ার্কের হদিস পাওয়া যায়। আশরাফুল ইসলাম ও সাহসকে শনাক্ত করে তাদের কাছ থেকে আরও ৩১০ মিলিলিটার এমডিএমবি, সিবিডি মিশ্রিত গাঁজার চকলেট, ভেপ ডিভাইস এবং বিক্রির জন্য প্রস্তুত খালি ক্যানিস্টার জব্দ করা হয়।
মাদকের বৈশিষ্ট্য ও বিপদ
-
এমডিএমবি হলো ভয়ংকর তরল সিন্থেটিক মাদক, যা মাত্র কয়েক ফোঁটা স্নায়ুতন্ত্রকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
-
সাধারণ ভেপ লিকুইডের মতো দেখতে হওয়ায় ব্যবহারকারীরা বুঝতে পারছেন না যে এটি প্রাণঘাতী মাদক।
-
মাদক ব্যবহারে হ্যালুসিনেশন, আক্রমণাত্মক আচরণ ও হৃৎস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়।
চক্রের পদ্ধতি
চক্রটি ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপকে ‘অদৃশ্য বাজার’ হিসেবে ব্যবহার করত। ক্লোজড গ্রুপ, রিভিউ পেজ ও ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সংকেতপূর্ণ পোস্ট দিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। ক্রেতারা ইনবক্সে মেসেজ করলে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট-এ দাম নির্ধারণ ও সরবরাহ নিশ্চিত হতো।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও অনেক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম পাওয়া গেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


