নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান দাবি করেন, ৫ আগস্টের বিপ্লবের পরের দিন থেকেই “একটি গোষ্ঠী” জনগণের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে — চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, প্রশাসনকে প্রভাবিত করার মাধ্যমে দাপট দেখাচ্ছে।
তার ভাষ্য, যদিও ফ্যাসিবাদ (আগের শাসনব্যবস্থা) বিদায় নিয়েছে, কিন্তু দেশ এখনো “ফ্যাসিবাদমুক্ত” হয়নি; নতুন রূপে ফ্যাসিবাদ আবার গড়ে উঠতে পারে, তাই তাদের “নতুন করে দাঁড়াতে” দেওয়া যাবে না।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টে — যাকে অনেকেই “July Revolution (Bangladesh)” বা ‘৩৬ জুলাই’ বলে– সংখ্যাগরিষ্ঠ ছাত্র–জনতা ও জনঅন্দোলনের পর শাসন পাল্টে যায়।
বিপ্লবের পর সরকার বদলায়; সঙ্গে বদলায় রাজনৈতিক অবস্থা ও দলগুলোর ভূমিকা। প্রথমেই, ২০১৩ সালে নির্বাচনী দল থেকে বাদ পড়েছিল Jamaat-ei-Islami; কিন্তু ২০২৪ সালের আগস্টে সাময়িক সরকারের অংশ হিসেবে সেই নিষেধাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এর ফলে Jamaat-ei-Islami সহ বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠী রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন যে, ৫ আগস্টের “বিপ্লব”–এর পর আশা করা পরিবর্তন পুরোটাই হয়নি — অবিচার, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা এখনো রয়ে গেছে।
এই প্রেক্ষাপটে শফিকুর রহমানের অভিযোগ — “বিপ্লবের পর গণতন্ত্র বা ন্যায় ফিরে আসেনি; বরং ক্ষমতার নতুন গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে, যারা দাপট দেখাচ্ছে” — অনেকের জন্য উদ্বেগজনক হলেও সম্ভাব্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিবর্তন হবার কথা ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক রিপোর্টগুলো দেখায় যে পরিবর্তন পুরোপুরি হয়নি; রাজনৈতিক – প্রশাসনিক ক্ষমতার চরিত্র, দাপট–নিয়ন্ত্রণ, এবং পুরনো কাঠামোর কিছু অংশ নতুনভাবে গঠিত হচ্ছে।
কেউ কেউ মনে করেন, যারা ক্ষমতায় যায়নি — তারা হয়তো রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী কোনো দল নয়, কিন্তু ক্ষমতার প্রভাব, অর্থ ও দলীয় কাঠামার মাধ্যমে “দাপট” তৈরি করতে পারছে। শফিকুর রহমানের অভিযোগ এমন বাস্তব ভাবেই শোনা যায়।
তবে — “কোন গোষ্ঠী” বা “কারা” — ঠিক কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এই প্রভাব বিস্তারে লিপ্ত হয়েছে, সেটা প্রমাণসহ বলা হয়নি (যদি এমন দাবি থাকে)। তাই পুরোপুরি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না বলা যায় — তবে “দাবি” হিসেবে সেটা গুরুত্ব রাখে।
বিপ্লবের পর, জাতীয় পরিবর্তনের সাথে Jamaat-ei-Islami-র রাজনৈতিক পুনরুজ্জীবন হচ্ছে। তাদের রাজনৈতিক নিবন্ধন, মিছিল, এবং সমাবেশ প্রক্রিয়া আবার সক্রিয়।
এমন পরিস্থিতিতে, ক্ষমতার ছলে বা প্রশাসনিক প্রভাবের মাধ্যমে — রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী হিসেবে — দাপট গড়ে তোলার প্রবণতা (অভিযোগ অনুযায়ী: চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, প্রশাসনের ওপর প্রভাব) বাস্তব-হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে


