মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬

ফেলানী হত্যার ১৫ বছর: বিচার কাঁটাতারে ঝুলে আছে

পাঠক প্রিয়

প্রতিদিন দুইটি পেস্তা, স্বাস্থ্য ও সুন্দরের জন্য গোপন শক্তি

অনলাইন ডেস্ক  মিষ্টি খেতে ভালো লাগলেও এখন থেকে পেস্তা শুধু স্বাদের জন্য নয়, স্বাস্থ্য রক্ষার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। দৈনন্দিন...

অবৈধ অস্ত্র নেটওয়ার্ক ভাঙার ইঙ্গিত? সুব্রত বাইনের সহযোগী বিপু রিমান্ডে

অনলাইন ডেস্ক  রাজধানীতে অবৈধ অস্ত্র বাণিজ্য ও সম্ভাব্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের...

বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার আটক, জামায়াত আমির যা বললেন

অনলাইন ডেস্ক ঢাকা, ৪ ফেব্রুয়ারি – জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এক্স (সাবেক টুইটার) একাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের সহকারী...

দেশের শস্য ভাণ্ডারে যুক্ত হলো ৬ নতুন ধানের জাত, এর মধ্যে রয়েছে ২ হাইব্রিড

বাসস দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে নতুন ছয়টি উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত অবমুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি হাইব্রিড...

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২৩ ফিলিস্তিনি, শিশু ও সেবাকর্মীরও মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক গত বুধবার গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান ও গোলাবর্ষণের ঘটনায় অন্তত ২৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।...

মোঃ খুরশীদ আলম সরকার

আজ ৭ জানুয়ারি, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নির্মমভাবে নিহত কিশোরী ফেলানী খাতুনের হত্যার ১৫ বছর পূর্ণ হলো। ২০১১ সালের এই দিনে মাত্র ১৪–১৫ বছর বয়সী ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করা হয়, এবং তার নিথর দেহ সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে সীমান্তের কাঁটাতারে ঝুলে থাকায় বিশ্বব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

হত্যার ঘটনা

ফেলানীর বাবা নূরুল ইসলাম এবং পরিবার ভারতের আসাম রাজ্যের বঙ্গাইগাঁও এলাকায় বসবাস করতেন। ফেলানীর বিয়ে ঠিক হওয়ার পর তিনি নিজ দেশে আসার উদ্দেশ্যে সীমান্তে পৌঁছান। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে ফেলানী ও তার বাবা কাঁটাতার টপকানোর চেষ্টা করেন। এ সময় বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষ তার উপর গুলি চালান। আহত ফেলানী প্রায় আধা ঘণ্টা ছটফট করার পর ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার মরদেহ সকাল পৌনে ৭টা থেকে সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে কাঁটাতারে ঝুলে থাকে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও মানবাধিকার বিরোধিতা

ফেলানীর হত্যার ঘটনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংস্থা ও সংগঠনগুলো ভারতের সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করে, কিন্তু এখনও কোনো কার্যকর বিচার বা শাস্তি কার্যকর হয়নি।

বিচার প্রক্রিয়া

  • ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহারে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টে ফেলানী হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়।

  • একই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর বিএসএফের বিশেষ আদালত অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে খালাস দেন।

  • পুনর্বিচারের আবেদন করা হয় এবং ২০১৫ সালের ২ জুলাই দ্বিতীয় দফায়ও অমিয় ঘোষকে খালাস দেওয়া হয়।

  • ফেলানীর বাবা নূরুল ইসলাম ‘মাসুম’ মানবাধিকার সংগঠনের সহায়তায় ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। শুনানি একাধিকবার পিছিয়ে যায় (২০১৬, ২০১৭, ২০১৮, ২০২০)।

  • ২০১৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ফেলানীর বাবা ও বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালমা আলী সুপ্রিম কোর্টে আরেকটি মামলা দায়ের করেন স্বচ্ছ বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবিতে।

পরিবার ও আইনজীবীদের বক্তব্য

ফেলানীর মা জাহানারা বেগম বলেন, “আমার মেয়েকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করেছে বিএসএফ সদস্য। ১৫ বছর হয়ে গেল, এখনও বিচার পাইনি।”
ফেলানীর বাবা নূরুল ইসলাম বলেন, “মেয়ের বিচার হলে সীমান্তে মানুষ কম মরত। এখন আর কোনো খবর পাই না।”
কুড়িগ্রামের আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, “ভারতের আন্তরিকতার অভাবের কারণে বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা উচিত।”

বিচারবিলম্বের প্রভাব

ফেলানীর হত্যার দীর্ঘস্থায়ী বিচারবিলম্ব সীমান্তে মানুষ হত্যার ক্ষেত্রে একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দ্রুত বিচার ও শাস্তি কার্যকর হলে সীমান্ত হত্যা অনেকাংশে কমে আসত।

১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ফেলানীর পরিবার এখনও বিচার পাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক ও দুই দেশের চাপ সত্ত্বেও বিচার ব্যবস্থার নীরবতা মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরছে। ফেলানীর হত্যার বিচার ঝুলে থাকা শুধু পরিবারকে নয়, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও মানবিক নীতির প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে।

সর্বশেষ সংবাদ

ক্ষমতায় গেলে সময়মতো পে-স্কেল বাস্তবায়ননের প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

অনলাইন ডেস্ক ঢাকা, সোমবার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যথাসময়ে নতুন পে-স্কেল...

শামস্ তাব্রিজি ও জালাল উদ্দিন রুমির আত্ম উন্নয়নের শিক্ষা

মাওলানা রুমির নিমন্ত্রণে গুরু শামস তাব্রিজি এলেন এক রাতে। খাওয়াদাওয়া শেষে, রুমির কাছে মদের আবদার করে বসলেন গুরু। রুমি স্তব্ধ! "গুরু, আপনি মদ্যপান করেন?" তাব্রিজির শান্ত...

বেকারত্বের অভিশাপ মুক্ত করতে ইপিজেড গড়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে: তারেক রহমান

অনলাইন প্রতিবেদক ঢাকা, সোমবার: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ঢাকা-৫ আসনে দ্রুত একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) গড়ে তোলা হবে। এতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি...

দেশ দুই ভাগে বিভক্ত, একদিকে মদিনার ইসলাম অন্যদিকে মওদূদীবাদী ইসলাম : রফিকুল আলম মজনু

ফেনী প্রতিনিধি ফেনী-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু বলেছেন, দেশ বর্তমানে দুই ধারায় বিভক্ত। একদিকে মদিনা ভিত্তিক প্রকৃত ইসলাম, অন্যদিকে মওদূদীবাদী ইসলাম—যা...

তারা ব্যালট ছাপাচ্ছে, এনআইডি কার্ড সংগ্রহ করছে, বোরকা কিনছে : আমীর খসরু

অনলাইন ডেস্ক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ...

জনপ্রিয় সংবাদ