
ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসা আওয়ামী লীগ (বর্তমানে যার কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ভোটের মাঠে কার্যত অনুপস্থিত। ফলে জেলার চারটি সংসদীয় আসনকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য ইসলামি দলগুলো নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে নির্বাচনী তৎপরতা বাড়িয়েছে।
জেলা বিএনপি চারটির মধ্যে তিনটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দলীয় কোন্দলের কারণে একটি আসনে এখনো প্রার্থী দেওয়া হয়নি। ঘোষিত আসনগুলোর মধ্যে একটি আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে ইতিমধ্যে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এসব আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিয়মিত গণসংযোগ, উঠোন বৈঠক, পথসভা ও এলাকায় দোয়া মাহফিল আয়োজন করে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন।
একইভাবে জামায়াতে ইসলামী আগেভাগেই চারটি আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করে মাঠে নেমেছে। তাদের প্রার্থীরাও সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। ইসলামি দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আলাদাভাবে প্রচারণায় নেমেছে এবং বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল নেতা–কর্মীদের সক্রিয় করছে।
এদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা না করলেও দুটি আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী এলাকায় প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তাদের পোস্টার, লিফলেট বিতরণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা ইতিমধ্যেই চোখে পড়ছে।
আলোচনায় রয়েছেন ফরিদপুর সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ কে আজাদও। তিনি কোন দল বা জোটের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন—তা এখনো স্পষ্ট না হলেও এলাকায় তার প্রচারণা ও যোগাযোগ তাকে কেন্দ্র করে নতুন জল্পনা সৃষ্টি করেছে।
সব মিলিয়ে ফরিদপুরের চারটি আসনেই আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিরোধী দলগুলোর তৎপরতা বেড়েছে কয়েকগুণ। আগামী নির্বাচনে জেলায় নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হবে—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।


