অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা, বুধবার: দেশে নিরাপদ, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রধান প্রধান রেলপথে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন বা বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়েকে জাতীয় পরিবহন ব্যবস্থার মূল মেরুদণ্ডে পরিণত করতে ২০৪৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের বিভিন্ন যোগাযোগ উন্নয়ন পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করতে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। মহাসড়কগুলোকে পর্যায়ক্রমে এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিডে রূপান্তরের পাশাপাশি মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। সড়কে ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে স্মার্ট মনিটরিং এবং এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুরও পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, রাজধানী ঢাকার যানজট ও জনঘনত্বের চাপ কমাতে রিং রোড ও রেডিয়াল রোড নেটওয়ার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংযোগস্থলে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণের মাধ্যমে যান চলাচল আরও গতিশীল করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বেশ কয়েকটি মেগা অবকাঠামো প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, যমুনা নদীর ওপর দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এলাকায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
চলমান ও প্রস্তাবিত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা-আশুলিয়া ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ প্রকল্প, পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত দোতলা সড়ক নির্মাণ, বরিশাল-ভোলা সড়কে কালাবদর ও তেঁতুলিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণ, শরীয়তপুর-চাঁদপুর এবং ভুলতা-আড়াইহাজার সড়কে মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প।
রেল খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি জেলা ও প্রধান শহরে রেলসেবা পৌঁছে দিতে ২০৪৫ সাল পর্যন্ত তিন ধাপে মোট ২৪টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, দেশের সমগ্র রেল নেটওয়ার্ককে পর্যায়ক্রমে ডুয়েলগেজ ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হচ্ছে, যার ফলে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন আরও সহজ ও কার্যকর হবে।
রেলের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেনের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। পরিকল্পনা অনুযায়ী স্বল্পমেয়াদে (২০২৬-২০২৭) ৩টি আন্তঃনগর ও ১০টি কমিউটার ট্রেন, মধ্যমেয়াদে (২০২৭-২০৩০) ১৫টি আন্তঃনগর ও ১৬টি কমিউটার ট্রেন এবং দীর্ঘমেয়াদে (২০৩১-২০৪৫) ১০৩টি আন্তঃনগর ও ৮৫টি কমিউটার ট্রেন যুক্ত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব হবে এবং সাধারণ মানুষের রেল ভ্রমণ হবে আরও সহজ, আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী।


