অনলাইন ডেস্ক

লাহোর থেকে সংবাদদাতা: পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সঙ্গে তাদের সম্পর্ক উত্তেজনার দিকে ধাবিত হয়েছে।
গত রবিবার লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রায় চার ঘণ্টার বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পিসিবির একাধিক সূত্রের বরাতে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, বৈঠক শেষে কোনো যৌথ ঘোষণা করা হয়নি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে পাকিস্তান সরকারের অনুমোদন নেওয়া হবে।
ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভি অনুযায়ী, পিসিবি আইসিসির কাছে তিনটি দাবি উত্থাপন করেছে—
-
বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার কারণে বাংলাদেশের জন্য বড় অংকের ক্ষতিপূরণ প্রদান।
-
অংশগ্রহণ ফি নিশ্চিত করা, যদিও বাংলাদেশ টুর্নামেন্টে খেলছে না।
-
ভবিষ্যতে কোনো আইসিসি ইভেন্টের আয়োজক হওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা।
তবে আইসিসি জানিয়েছে, আলাদা আর্থিক ক্ষতিপূরণের সুযোগ নেই, তবে আয় থেকে বাংলাদেশের পূর্ণ অংশ নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা পরামর্শ দিয়েছেন, পিসিবি চাইলে বিষয়টি আরবিট্রেশন কমিটি বা বোর্ড সভায় তুলতে পারে। তবে ক্রিকেটের স্বার্থে দ্রুত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কট প্রত্যাহারের পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
পিসিবি আগে দেশের সরকারি নির্দেশনাকে ‘বলবৎ’ করে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে অংশগ্রহণ না করার ঘোষণা দিয়েছিল। পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এটিকে বাংলাদেশের প্রতি “সংহতির প্রতীক” হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
আইসিসি পিসিবিকে জানিয়েছে, ‘ফোর্স মেজর’ দাবি করার আগে কি ধরনের প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল তা স্পষ্ট করতে হবে। সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ না হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে এবং গুরুতর পরিস্থিতিতে সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিলের ক্ষমতাও আইসিসির আছে।
পিসিবি অবশ্য মনে করছে, আইনি লড়াইয়ে তাদের অবস্থান শক্ত। তারা পূর্বের ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ সংক্রান্ত বিরোধের উদাহরণ তুলে ধরছে, যা একসময় আইসিসির বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি পর্যন্ত গিয়েছিল।
পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ এই ক্রিকেট উত্তেজনা এখনও সমাধানহীন। তবে শিগগিরই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথের নিয়তি কেমন হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।


