অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা ও মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকালে এলাকার শাহজাহান রোডের একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট থেকে গৃহবধূ লায়লা আফরোজ (৪৮) এবং তার কন্যা নাফিসা বিনতে আজিজের (১৫) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মোহাম্মদপুর থানার কর্মকর্তারা জানান, পরিবারের সদস্যদের ফোনে না পাওয়া ও দরজা অনেকক্ষণ বন্ধ দেখে প্রতিবেশীরা সন্দেহ করেন। পরে পুলিশ গিয়ে ভেতরে দুজনের রক্তাক্ত লাশ দেখতে পায়। ধারণা করা হচ্ছে, ভোর থেকে সকাল—এই সময়ের মধ্যেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজন তরুণী
ঘটনার পর ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। ওই ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ৯টা ৩৬ মিনিটে সাদা সালোয়ার-কামিজ, প্রিন্টের ওড়না ও পায়ে কেডস পরা এক তরুণী ধীরস্থিরভাবে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছেন। তার পিঠে একটি ব্যাগ এবং মুখে মাস্ক ছিল।
নিচে ভবনের প্রধান প্রবেশপথে বসা তিনজনের একজন উঠে গেট খুলে দেন। তরুণী বাইরে বেরিয়ে রাস্তার ধারে দাঁড়ানো একটি অটোরিকশায় উঠে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ফুটেজের তরুণীকে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে দেখছে।
তদন্ত চলছে
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরিবার, পরিচিতজন এবং ভবনের অন্যান্য আবাসিকদের সঙ্গে কথা বলার মাধ্যমে ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
ক্রাইম সীন ইউনিট ফ্ল্যাট থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। দুই জনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ বলছে, সিসিটিভির তরুণীকে শনাক্ত করতে আশপাশের আরও ক্যামেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অটোরিকশাটির রুট ও চালককে শনাক্ত করতেও কাজ চলছে।
পাড়ায় আতঙ্ক
হত্যাকাণ্ডের পর শাহজাহান রোড এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেশীরা জানান, লায়লা আফরোজ ও নাফিসা বিনতে আজিজ শান্ত-স্বভাবের পরিবার হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
একজন প্রতিবেশী বলেন, “এভাবে দিনের আলোয় এমন ঘটনা ঘটবে—কল্পনাও করতে পারিনি।”


