লালমনিরহাট ও রংপুর প্রতিনিধি

রংপুর, ২১ জুন: রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় মহিপুর তিস্তা সেতুর রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ধস দেখা দিয়েছে। তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত বছর নির্মিত বাঁশের পাইলিং ভেঙে গিয়ে বাঁধের অন্তত ৫০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুসহ রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২০ জুন) রাত থেকে সেতুর উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের রক্ষা বাঁধে ভাঙন শুরু হয়। রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত বাঁধের ৫০ মিটারেরও বেশি অংশ ধসে গিয়ে প্রায় ৬০ ফুট গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রতিদিন এই সেতু ব্যবহারকারী ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের এক হাজারের বেশি পরিবার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরও একই স্থানে প্রায় ১০০ ফুট এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে সেতুটি হুমকির মুখে পড়েছিল। সে সময় প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধের উজানে বাঁশের পাইলিং নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। তবে পরবর্তীতে স্থায়ী কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এবার আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে।
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর মুসরত মদাতি এলাকার বাসিন্দা শাহনাজ বেগম বলেন, “এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শহরে যাতায়াত করি। সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।”
তিস্তা সেতু এলাকার শিক্ষার্থী বাদশা মিয়া বলেন, “বাঁধ ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে, অথচ এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উজান থেকে আরও পানি নেমে এলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।”
কৃষক খোরশেদ আলী বলেন, “এই বাঁধ ভেঙে গেলে শুধু সেতুই নয়, আশপাশের আবাদি জমিও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। অথচ এলজিইডি এখন পর্যন্ত শুধু আশ্বাসই দিয়েছে।”
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, “গত বছর ভাঙন রোধে ব্লক ফেলার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু এলজিইডি তা না করে বাঁশের পাইলিং নির্মাণ করে। এবার সেই পাইলিংও ভেঙে গেছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সেতুর অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে।”
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, “তিস্তার পানি বৃদ্ধির কারণে সেতু রক্ষা বাঁধের প্রায় ৫০ শতাংশ ধসে গেছে। গত বছর বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শ অনুযায়ী পাইলিং করা হয়েছিল। নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুমে তিস্তার পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আগেই স্থায়ী ও টেকসই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু এবং রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।


