নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, শনিবার: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, বাংলাদেশে যে গণতন্ত্র শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া লালন করেছেন, আজ সেই গণতন্ত্র সঙ্গে করেই দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তারেক রহমানের আগমন মানেই দেশে গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন। দেশের জনগণ আজ তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।
শনিবার রাজধানীর গোপীবাগের সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, দেশের যারা ভালো চায় না, যারা দেশকে ভালোবাসে না, তারা দেখতে মানুষের মতো হলেও প্রকৃতপক্ষে মানুষরূপী শয়তান। ’৪৭ সালে তারা পাকিস্তানের বিরোধিতা করেছে, ’৭১ সালে বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছে। তারা দেশের শান্তি চায় না। কিছুদিন নীরব থাকলেও আবার তাদের নখ ও বিষদাঁত বিকশিত হচ্ছে। তাদের কার্যক্রম ধারাবাহিক এবং গভীর ষড়যন্ত্রমূলক।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের সামনে কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তি টিকে থাকতে পারে না। যারা ষড়যন্ত্র করছেন, তাদের সাবধান হয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারের সমালোচনা করে মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপি একাধিকবার সরকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কিন্তু সরকার সেই সহযোগিতা গ্রহণ না করে দেশবিরোধী শক্তির সঙ্গে পথ চলেছে। যখন দেশে অগ্নিসন্ত্রাস ও মব সন্ত্রাস চলছে, তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। উল্টো এসব ঘটনার জন্য বিএনপিকে দোষারোপ করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের নামে এক শ্রেণির মানুষ মব সৃষ্টি করে জনজীবন দুর্বিষহ করে তুলছে। সরকারকে অবিলম্বে এসব মব সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করে মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপি গণতন্ত্রের রক্ষক, ভক্ষক নয়। বিএনপি হত্যা, গুম কিংবা মবের রাজনীতি করে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে, দলটি হাত গুটিয়ে বসে থাকবে। ’২৪-এর অধিকার জনগণ রক্ত দিয়ে আদায় করেছে, সেই অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। আজ দেশের সর্বত্র অসহায়ত্বের ধ্বনি শোনা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, শহীদ জিয়া যেভাবে বাকশাল ভেঙে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান যেভাবে জনগণের পাশে ছিলেন, এবারও বিএনপি জনগণের পাশে থাকবে। প্রয়োজনে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে, তাদের প্রতিহত করা হবে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নবী উল্লাহ নবী, ঢাকা-১০ আসনের প্রার্থী শেখ রবিউল আলম, ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, ঢাকা-৭ আসনের প্রার্থী হামিদুর রহমান হামিদ, ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিবসহ মহানগর দক্ষিণ বিএনপির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।


