নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের তথ্য ভবনে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরে সরকারি কর্মকর্তাদের একটি গোপন বৈঠন ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতের এই বৈঠকে সরকারের একজন সচিবসহ বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন বলে অধিদপ্তরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রগুলোর দাবি, বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় অফিস সময়ের পর এবং অত্যন্ত সীমিত পরিসরে। কোন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে, প্রশাসনিক কিছু সমন্বয়মূলক ইস্যু নিয়ে কথা হয়েছে। তবে এ ধরনের বৈঠককে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠছে অভ্যন্তরীণ মহলে।
গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) দায়িত্বে আছেন মো. আবদুল জলিল। তিনি অতীতে সাবেক শিল্পমন্ত্রী এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে জানা যায়। তাঁর দায়িত্বকালে তথ্য ভবনে এমন বৈঠককে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। কেউ কেউ বলেন, এটি ছিল “রুটিন প্রশাসনিক সমন্বয় বৈঠক”, অন্যদিকে কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেন, “গোপনীয়তার মাত্রা অস্বাভাবিক হওয়ায় স্বাভাবিক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।”
তথ্য ভবনের একাধিক সূত্রে জানা গেছে ,বৈঠকে উপস্থিত হওয়া সরকারী কর্মকর্তাদের গাড়ির নম্বরগুলো হলো ঢাকা মেট্রো-ঘ ১৫-৯৫২০, ঢাকা মেট্রো-গ ৩১-৯১০০, ঢাকা মেট্রো- গ ৩৫-৩৪২১। সরকারের প্রভাবশালী একজন সচিবদের নেতৃত্বে বেশকিছু সরকারি কর্মকর্তা তথ্য ভবনে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক করেন।
এমন অভিযোগে রাতেই তথ্য ভবনে যান কয়েকজন সাংবাদিক। তথ্য ভবনের লিফটের আটে নবম তলায় গণযোগাযোগ অধিদপ্তরে গিয়ে দেখা যায়, সম্মেলন কক্ষে গোপন বৈঠক চলছে। কর্মচারীদের করা প্রহরায় রুদ্ধদ্বার এই বৈঠকে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি পরামর্শ করছেন।
গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত এক কর্মকর্তা জানান, রাত ৮টা থেকে একজন সচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বৈঠক করছেন। সেখানে যাওয়া যাবে না।
জানা গেছে, অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবদুল জলিল-সহ জামায়াতে ইসলামীর অনুসারীরা রাত ৮টা থেকে গোপন বৈঠক শুরু করেন।
ঢাকায় সরকারি তথ্য ভবনে হঠাৎ এতো গুরুত্বপূর্ণ কী বৈঠক চলছে, এ নিয়ে কৌতূহলী সাংবাদিক ও উৎসুক কয়েকজন নজর রাখছিলেন। তবে মহাপরিচালক আবদুল জলিল সাংবাদিকদের জানান, কুমিল্লার বুড়িচং মডেল ট্রাস্টের একটি বৈঠক চলছে। সেখানে দলীয় কোনো বিষয় নেই। রাত সোয়া ৯টার দিকে হঠাৎ করে আপ্যায়ন শেষে সবাই বেরিয়ে যান।
বৈঠকে অংশ নেওয়া সচিব বা অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তথ্য ভবনের এই রাতের বৈঠক নিয়ে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে—এটি কেবল রুটিন বৈঠক, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছে অনেকে।


