
নিজস্ব প্রতিবেদক : আজ মঙ্গলবার সকালেও রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা ছিল উদ্বেগজনক। বিশ্বজুড়ে ১২৭টি নগরীর মধ্যে ঢাকার অবস্থান ছিল চতুর্থ। আজ সকাল সাড়ে আটটার দিকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ু মান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারের (IQAir) তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বায়ু মান সূচক (AQI) ছিল ২২১, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ (Unhealthy) হিসেবে বিবেচিত।
বায়ু মান সূচক ২০১ থেকে ৩০০ হলে তা ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ের মধ্যে পড়ে। এই পর্যায়ের বায়ুতে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালা, গলা ব্যথা ও অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্টে ভোগা মানুষদের জন্য এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর।
তবে আজ ঢাকার চেয়েও বেশি দূষিত বাতাস রেকর্ড করা হয়েছে খুলনায়। খুলনার বায়ু মান সূচক আজ সকালে ছিল ঢাকার চেয়ে বেশি, যা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ (Very Unhealthy) পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, বড় শহরগুলো ছাড়াও এখন বিভাগীয় শহরগুলোও মারাত্মক বায়ুদূষণের শিকার হচ্ছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, শীতের মৌসুম ঘনিয়ে এলে বায়ুদূষণের মাত্রা আরও বাড়বে। যানবাহনের কালো ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা, ইটভাটার ধোঁয়া এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য—এসবই এখন বায়ুদূষণের প্রধান উৎস।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নগরজুড়ে নির্মাণকাজে ধুলা নিয়ন্ত্রণ, পুরোনো যানবাহন অপসারণ, এবং ইটভাটাগুলোর আধুনিকায়ন না করা হলে ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।
চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিয়েছেন, এমন পরিস্থিতিতে বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করা, বেশি সময় খোলা জায়গায় না থাকা এবং ঘরের ভেতর জানালা বন্ধ রেখে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করা কার্যকর হতে পারে।


