বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২৬

ট্রেন হয়ে উঠছে ইয়াবা সিন্ডিকেটের নিরাপদ করিডর

পাঠক প্রিয়

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি লাল কার্ডে ব্রাজিল, শীর্ষ তালিকায় আর্জেন্টিনা-ক্যামেরুনও

স্পোর্টস ডেস্ক ফুটবলকে ‘ফেয়ার প্লে’র খেলা বলা হলেও বিশ্বকাপের ইতিহাসে উত্তেজনা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং শারীরিক সংঘর্ষের কারণে বহুবার রেফারিদের লাল কার্ড...

সালাহকে থামানোর পরিকল্পনায় নিউজিল্যান্ড, মিশরের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষা

অনলাইন ডেস্ক বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইরানের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করার পর এবার মিশরের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে নিউজিল্যান্ড। সোমবার...

নেপাল, আমেরিকান সামোয়া ও সেনেগালে ভিশন পণ্যের রপ্তানি শুরু

অনলাইন ডেস্ক ঢাকা: দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান আরএফএল ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড নতুন তিনটি দেশে ফ্রিজ, এয়ার কন্ডিশনার (এসি)...

শিক্ষার মানোন্নয়নে বাউবিতে কারিকুলাম উন্নয়নবিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

গাজীপুর প্রতিনিধি গাজীপুর, ১৮ জুন: শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, অংশীজনদের চাহিদা নির্ধারণ এবং যুগোপযোগী কারিকুলাম উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)...

মুন্সীগঞ্জে আরিফ হোসেন হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জে আরিফ হোসেন হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন...

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

কক্সবাজার রেলপথ সাম্প্রতিক সময়ে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক পাচারের একটি নিরাপদ মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। সড়কপথে কঠোর নজরদারির কারণে মাদক কারবারি চক্র এখন ট্রেন যোগাযোগব্যবস্থাকে বেছে নিচ্ছে। লাগেজ স্ক্যানার মেশিন দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবে কক্সবাজার রেলস্টেশন কার্যত মাদক পাচারকারীদের জন্য ‘পোয়াবারো’ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, কক্সবাজার থেকে ঢাকা পর্যন্ত পর্যটক এক্সপ্রেসকক্সবাজার এক্সপ্রেস নামে দুটি বিরতিহীন ট্রেন চলাচল করে, যা শুধু চট্টগ্রাম স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। পাশাপাশি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ব্যবস্থাপনায় সৈকত এক্সপ্রেসপ্রবাল এক্সপ্রেস নামে আরও দুটি ট্রেন চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে চলাচল করছে। এসব ট্রেনকে কাজে লাগিয়ে মাদক চক্র সারা দেশে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ (আইস), হেরোইন ও কোকেন ছড়িয়ে দিচ্ছে।

সড়কপথের বিকল্প হিসেবে ট্রেন

সড়কপথে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় পৌঁছাতে বিভিন্ন জায়গায় নিয়মিত তল্লাশি চালানো হয়। এ কারণে নজরদারি এড়াতে পাচারকারীরা ট্রেনকে তুলনামূলক নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে। অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, পাচার কাজে নারী বহনকারীদের ব্যবহার করা হচ্ছে, যা মাদক সিন্ডিকেটের কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সাম্প্রতিক অভিযান ও উদ্ধার

রেলওয়ে পুলিশ জানায়, সর্বশেষ গত ১২ ডিসেম্বর রাতে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে র‌্যাবের অভিযানে ট্রেনযোগে কক্সবাজার থেকে আনা ৩ হাজার ৮৯৫ পিস ইয়াবাসহ দুই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা

এর আগে ২৯ মার্চ রাতে ঢাকার বিমানবন্দর রেলস্টেশনে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি থেকে ৩৩ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা জব্দ করে ঢাকা রেলওয়ে পুলিশ। তবে ওই ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশের চোখ ফাঁকি দেওয়ার কৌশল

রেলওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, মাদক কারবারিরা ট্রেনে ইয়াবা বহনের সময় মাদক এক জায়গায় রেখে নিজেরা অন্য বগি বা আসনে বসে থাকে। ফলে তল্লাশি হলেও অনেক সময় মূল বহনকারী শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

নিরাপত্তা ঘাটতি ও দাবি

মাদক পাচার রোধে কক্সবাজার রেলস্টেশনে রেলওয়ে পুলিশের থানা স্থাপন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ড্রাগ ডিটেকশন স্ক্যানার বসানোর দাবি থাকলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া বলেন,
“কক্সবাজার রেলস্টেশনে লাগেজ স্ক্যানার মেশিন চালু ছিল। টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে কিছুদিন বন্ধ থাকলেও এখন আবার চালু হয়েছে। তারপরও কিছু ফাঁকফোকর দিয়ে মাদক পাচার হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় হলে এটি অনেকাংশে কমে আসবে।”

রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (ক্রাইম ও অপারেশন) তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেন,
“মাদক পাচার রোধে রেলওয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। এই রুট কীভাবে তৈরি হয়েছে, কারা জড়িত—সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দ্রুতই ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, রেলপথে সমন্বিত নজরদারি, আধুনিক স্ক্যানিং ব্যবস্থা, নিয়মিত গোয়েন্দা তৎপরতা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে কক্সবাজার রেলপথে মাদক পাচারের এই ভয়াবহ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। অন্যথায় ট্রেনভিত্তিক মাদক পাচার আরও বিস্তার লাভ করতে পারে।

সর্বশেষ সংবাদ

জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তায় আইটিএফসির দ্বারস্থ বাংলাদেশ, ২.৮ বিলিয়ন ডলার ঋণের পরিকল্পনা

অনলাইন ডেস্ক বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আবারও আন্তর্জাতিক ইসলামিক ট্রেড ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইটিএফসি)-এর সহায়তার দিকে ঝুঁকছে...

ডিএমপিতে দুই ডিসির রদবদল

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) দুই উপ-পুলিশ কমিশনারকে (ডিসি) রদবদল করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট অ্যান্ড স্পেশাল কোর্ট সিকিউরিটি বিভাগ এবং সিটি-রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট...

এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেবে সরকার : জিয়াউদ্দিন

অনলাইন ডেস্ক স্বাস্থ্যসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী এবং ২৫ হাজার মিডওয়াইফ (ধাত্রী) নিয়োগ দেওয়ার...

কাতারে আটকে থাকা ৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাবে ইরান, দাবি পেজেশকিয়ানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে কাতারের হেফাজতে থাকা ইরানের প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ফেরত আসবে বলে দাবি করেছেন দেশটির...

‘ফুটবলের জন্য অযোগ্য’ থেকে বিশ্বকাপের নায়ক, উন্দাভের অবিশ্বাস্য উত্থান

স্পোর্টস ডেস্ক একসময় যাকে ফুটবলের জন্য ‘অযোগ্য’ বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেই ডেনিস উন্দাভ এখন বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত নাম। জীবনের নানা প্রতিকূলতা, আর্থিক সংকট ও...

জনপ্রিয় সংবাদ