অনলাইন ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে আরও এক হতাশার অধ্যায় যোগ হলো মোহাম্মদ সালাহর জীবনে। আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (আফকন) সেমিফাইনালে সেনেগালের কাছে হারের পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও ব্যর্থ হলো মিসর। গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ৪–২ ব্যবধানে হেরে ব্রোঞ্জ পদক হাতছাড়া করে সালাহদের দল। পেনাল্টি শুটআউটে শট মিস করে ম্যাচের খলনায়ক হয়ে থাকেন লিভারপুলের এই তারকা ফরোয়ার্ড।
গতকাল মরক্কোর রাবাতে স্তাদ মোহাম্মদ ভি’তে অনুষ্ঠিত তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ফলে ম্যাচ গড়ায় সরাসরি টাইব্রেকারে। সেখানে শুরুতেই সালাহ ও মিসরের আরেক তারকা ওমর মারমুশের পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন নাইজেরিয়ার গোলকিপার স্ট্যানলি নোয়াবালি। শেষ পর্যন্ত নাইজেরিয়া টাইব্রেকারে জয় তুলে নিয়ে রেকর্ড নবমবারের মতো আফকনের ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করে এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নিজেদের অপরাজিত রেকর্ডও ধরে রাখে।
এই ম্যাচে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও নজর ছিল সালাহর দিকে। টুর্নামেন্টে পাঁচ ম্যাচে চার গোল করা এই ফরোয়ার্ড মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজের (৫ গোল) ঠিক পেছনে ছিলেন। নাইজেরিয়ার ভিক্টর ওসিমেনকে শুরুর একাদশে না রাখায় শেষ ম্যাচে সালাহর সামনে দিয়াজকে টপকে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু গোল করতে না পারায় ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও হতাশায় শেষ হয় তার আফকন।
ম্যাচের প্রথমার্ধে আকোর অ্যাডামসের হেড থেকে নাইজেরিয়া এগিয়ে গিয়েছিল বলে মনে হলেও ভিএআর সিদ্ধান্তে সেই গোল বাতিল হয়। দ্বিতীয়ার্ধে বলের দখল ও আক্রমণে কিছুটা এগিয়ে ছিল নাইজেরিয়া, তবে দুই দলই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। ৭৯তম মিনিটে মারমুশের একটি দ্রুত আক্রমণ থেমে যায় সেমি আজাইয়ের চ্যালেঞ্জে। অপর প্রান্তে আকোর অ্যাডামসের পেনাল্টির আবেদনও নাকচ করেন রেফারি।
টাইব্রেকারে প্রথমে নাইজেরিয়ার ফিসায়ো ডেলে-বাসিরুর শট ঠেকান মিসরের বদলি গোলকিপার মোস্তাফা শোবেইর। কিন্তু এরপরই সালাহ ও মারমুশের শট সেভ করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন নোয়াবালি। নাইজেরিয়ার হয়ে অ্যাডামস, মোসেস সাইমন, অ্যালেক্স ইওবি ও শেষ শট নেওয়া আদেমোলা লুকম্যান সফলভাবে গোল করে দলকে জয় এনে দেন। মিসরের হয়ে কেবল রামি রাবিয়া ও মাহমুদ সাবের গোল করতে পারেন।
এই হারের ফলে আফকনে চতুর্থ স্থানেই থামতে হলো মিসরকে, যা ১৯৮৪ সালের পর তাদের সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স। পুরো টুর্নামেন্টে দলকে টেনে নেওয়া সালাহ শেষ মুহূর্তে এসে হতাশাই উপহার দিলেন—স্বর্ণ কিংবা ব্রোঞ্জ নয়, আফকন শেষ হলো তার জন্য আরেকটি বেদনাদায়ক স্মৃতি হয়ে।


