প্রতিবেদক, নীলফামারী

নীলফামারী জেলা, কিশোরগঞ্জ উপজেলা: দূর থেকে দেখলে মনে হবে এটি কোনো পরিত্যক্ত ভবন, কিন্তু বাস্তবে এটি ডুমুরিয়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যেখানে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে পড়াশোনা করছে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী। জরাজীর্ণ ভবনের ছাদ চুঁইয়ে পড়া, স্যাঁতসেঁতে দেওয়াল, বেঞ্চের অভাব, বিশুদ্ধ পানির সংকট ও পর্যাপ্ত ওয়াশ ব্লকের অনুপস্থিতি বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন চিত্র।
বিদ্যালয়টি ১৯৩৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও বছরের পর বছর কোনো সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে একতলা ভবনটি নাজুক অবস্থায় আছে। প্রধান ভবনের চারটি কক্ষে শিক্ষার্থীরা মেঝেতে বসে পাঠদান করছে। বর্ষা মৌসুমে ছাদ দিয়ে পানি পড়ার কারণে ক্লাস চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া স্কুলের মাঠ খেলাধুলার জন্য অনুপযোগী এবং খেলাধুলার সরঞ্জাম নেই।
সহকারী শিক্ষক খুকুমণি রায় জানান, “প্রতিদিন আমরা আতঙ্কে থাকি, কখন যে কী হয়! শিক্ষার্থীরা মেঝেতে বসে ক্লাস করছে, প্রতিদিন কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটে।” সহকারী শিক্ষক বিউটি আক্তার বলেন, “শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা একই টয়লেট ব্যবহার করছে, স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। আমরা চাই নতুন ভবন নির্মাণসহ সমস্যার দ্রুত সমাধান হোক।”
অভিভাবকরা জানাচ্ছেন, বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোর সময় তারা ভয় পান। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল গফুর বলেন, “বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়ায় ভবনটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন ছোট ছোট শিশুরা ঝুঁকি নিয়ে পড়াশোনা করছে।”
প্রধান শিক্ষক মোছা. নাসরিন বেগম বলেন, “দুর্ঘটনা এড়াতে একজন শিক্ষক পাঠদান চালান, আর অন্যজন দরজার সামনে দাঁড়ান। নতুন ভবনের জন্য বহুবার চিঠি দিয়েছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।”
সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রবিউল ইসলাম জানান, “নতুন ভবন নির্মাণের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে আনুষ্ঠানিক চাহিদা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিদ্যালয়টির ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার মান উন্নয়নে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণ।


