জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুর জেলা জুড়ে বইছে নির্বাচনের হাওয়া। জাতীয় সংসদের পাঁচটি আসনে একাধিক রাজনৈতিক দলের সক্রিয় অংশগ্রহণে জমে উঠেছে ভোটের মাঠ। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ ও এবি পার্টিসহ বিভিন্ন দল প্রার্থী দিলেও বাস্তব চিত্র বলছে—তিনটি আসনে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি, আর বাকি দুই আসনে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি।
জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ–বকশীগঞ্জ): সমীকরণে নতুন মোড়
এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক শক্তির কারণে তিনি শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
তবে সমীকরণে বড় পরিবর্তন এনেছেন বকশীগঞ্জের চারবারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ তালুকদার। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমে পরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগ দেওয়ায় তিনি নতুন ভোটব্যাংক তৈরিতে সক্ষম হয়েছেন। তালুকদার পরিবারের সামাজিক-রাজনৈতিক প্রভাব, আওয়ামী পরিবারের ভোটের সম্ভাব্য বিভাজন এবং বিএনপির অভ্যন্তরীণ অসন্তুষ্ট অংশের সমর্থন—সব মিলিয়ে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র আকার ধারণ করেছে।
এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ নাজমুল হক সাঈদীও দলীয় ভোট ও ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতায় প্রভাব ফেলতে পারেন।
জামালপুর-২ (ইসলামপুর): বিএনপির দুর্বলতা, জামায়াতের সুযোগ
এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক এমপি এ ই সুলতান মাহমুদ বাবু। তবে তার গুরুতর অসুস্থতা ও নির্বাচনি মাঠে অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে দলীয় নেতাকর্মীদের আন্দোলন বিএনপিকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. মো. ছামিউল হক ফারুকী সাংগঠনিক দক্ষতা ও সক্রিয় প্রচারণার মাধ্যমে সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করেছেন।
জামালপুর-৩ (মেলান্দহ–মাদারগঞ্জ): বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন
এই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল দীর্ঘদিন ধরেই চ্যালেঞ্জের মুখে। তার বিরুদ্ধে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের আন্দোলন বিএনপির ঐক্যকে দুর্বল করেছে। যদিও আন্দোলন আপাতত স্তিমিত, বিভক্ত ভোটব্যাংক বিএনপির জন্য বড় ঝুঁকি।
এনসিপির লুত্ফর রহমান এবং জামায়াতের অধ্যাপক মাওলানা মো. মুজিবুল রহমান আজাদী এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জটিল করে তুলেছেন।
জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী): ঐতিহ্য বনাম সংগঠন
সরিষাবাড়ীতে বিএনপির প্রার্থী ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম স্থানীয় রাজনীতিতে সুপরিচিত ও শক্তিশালী। তালুকদার গোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের সামাজিক প্রভাব এবং তার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা তাকে এগিয়ে রেখেছে।
জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল তুলনামূলক কম পরিচিত হওয়ায় এই আসনে বিএনপিই এগিয়ে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জামালপুর-৫ (জামালপুর সদর): উন্নয়নকেন্দ্রিক আসনে বিএনপির স্বস্তি
জেলার রাজনৈতিক ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র জামালপুর সদর আসনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তার বয়স ও সীমিত মাঠপর্যায়ের উপস্থিতির কারণে কিছুটা পিছিয়ে। ফলে এই আসনেও বিএনপি তুলনামূলকভাবে নির্ভার অবস্থায় রয়েছে।
সার্বিক চিত্র
সব মিলিয়ে জামালপুরে এবারের নির্বাচন বহুমাত্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভরপুর। জামালপুর-১, ২ ও ৩ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা থাকলেও জামালপুর-৪ ও ৫ আসনে বিএনপি এগিয়ে রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের ফল নির্ধারণ করবে দলীয় ঐক্য, মাঠপর্যায়ের প্রচারণা এবং ভোটার উপস্থিতি।


