নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, ২৪ ডিসেম্বর: বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামী জোটের আসন বণ্টন নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও অন্যান্য শরিক দলগুলো কোন আসনে কে প্রার্থী হবে, এ নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। বিষয়টি ধীরগতিতে এগোচ্ছে, প্রধানত শরিক দলগুলোর বড় আসনের দাবি এবং দরকষাকষার কারণে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ৯ থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনটি বিভাগের আসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এখনো ৮ দল চূড়ান্ত সমাধান করতে পারেনি। শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামী বাদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি আসনের দাবি জানিয়েছে। দলটি শতাধিক আসন চায়। খেলাফত মজলিস ও খেলাফত আন্দোলন যথাক্রমে ৫০ ও ২০টি আসনের দাবি জানিয়েছে, নেজামে ইসলাম ১৫টি এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি ৬টি আসন চেয়েছে। বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ৫টি আসনের মধ্যে প্রধান দুই আসন পাবে; ইতিমধ্যেই ময়মনসিংহ-৯ আসনে বিডিপির চেয়ারম্যানের মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান জানিয়েছেন, “রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। আমরা এমন একটি ফর্মুলা নিয়ে এগোচ্ছি যেখানে প্রার্থীর অবস্থান, সাংগঠনিক শক্তি এবং ইমেজ বিবেচনায় বণ্টন হবে। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।”
জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে সংখ্যা নয়, প্রার্থীর জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা মূল ভিত্তি। সহকারী সেক্রেটারি ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “যেখানে যেটি দলের অবস্থান ভালো, সেই দলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এক দল এক আসনের বাইরে অতিরিক্ত দাবিতে সমস্যা হবে না। প্রতিটি দলের সর্বোচ্চ ছাড় দেওয়ার মানসিকতা রয়েছে।”
সূত্র জানিয়েছে, ৮ দলের লিয়াজোঁ কমিটি আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করবে। এর পর আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে জোটের প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করা হতে পারে। জোটের সব দল বৃহত্তর ইসলামি ঐক্যের স্বার্থে সমঝোতায় অগ্রাধিকার দিচ্ছে।


