জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাট, ২৪ ডিসেম্বর – টানা এক সপ্তাহ ধরে পশ্চিমা বাতাসের প্রভাবে জয়পুরহাট জেলায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে বুধবার সকাল ১১টা পর্যন্ত জেলার সর্বত্র হাড়কাঁপানো শীত অনুভূত হচ্ছে। ঘন কুয়াশার সঙ্গে শীতের প্রকোপ বেড়ে গেছে, কুয়াশা বৃষ্টির মতো ঝরে সড়ক ভিজে গেছে।
ঘন কুয়াশার কারণে মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে। জীবিকার তাগিদে শ্রমজীবী মানুষ ঘর থেকে বের হলেও শীতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষত শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শীতজনিত রোগ যেমন নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রভাবে হাসপাতালে রোগী ভর্তি হচ্ছে।
নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম জানান, বুধবার ভোর ৬টায় জয়পুরহাট ও বদলগাছীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৯টায়ও তাপমাত্রা অপরিবর্তিত ছিল।
স্থানীয়রা জানান, ঘন কুয়াশার মধ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়া দুষ্কর হলেও জীবিকার তাগিদে কাজ করতে হচ্ছে। জয়পুরহাট-বগুড়া মহাসড়কের বাসচালক মুহিবুল জানিয়েছেন, দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে বাস চালাতে হচ্ছে এবং যাত্রী কমে যাওয়ায় বাস চলাচলে অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রাশেদ মোবারক জুয়েল বলেন, শিশু ও বয়স্কদের শীতজনিত ঝুঁকি এড়াতে বাড়ির বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
শীতের কারণে বস্তিবাসী ও ছিন্নমূল মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন, আর কৃষকরা আলুর ক্ষেত ও আগাম ইরি-বোরো রোপণের কাজে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।


