বিশেষ প্রতিবেদক

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় দেশের জনগণ যে সাহসী এবং গণতান্ত্রিক স্বপ্ন দেখেছিল, তা স্বীকার করে বলা যায়—অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন ছিল একটি রাজনৈতিক ভুল। এই ভুলের ফল আজ পুরো দেশ দেখতে পাচ্ছে। দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ জটিল ও অশান্ত, পরিকল্পিত হত্যা, অগ্নিসংযোগ এবং মব সন্ত্রাসের কারণে জনগণ আতঙ্কিত।
অদ্য শনিবার ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির দাফন শেষে সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্টনস্থ বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপির এক জরুরি মতবিনিময় সভায় পার্টির ভাপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুফি সাগর সামস্ উপরোক্ত মন্তব্য করেন।
তিনি আরো বলেন, সময়ের ব্যবধানে এই ভুলের উপলব্ধি অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যেই তীব্রভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই তাদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কারণ, তারা ভালোভাবেই জানেন—জুলাই অভ্যুত্থানের সময় যে ব্যাপক জনসমর্থন তারা পেয়েছিলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী আর্থিক কেলেঙ্কারি ও শাসনগত ব্যর্থতার কারণে সেই সমর্থন এখন দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে।
বিএইচপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেবল একটি নির্বাচন নয়; এটি জনগণের ভোটের মাধ্যমে আরেকটি গণতান্ত্রিক অভ্যুত্থানে রূপ নিতে পারে। অতীতে যেমন ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটেছিল, তেমনি জনগণের রায়ে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতা থেকেই নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা চলছে।
সুফি সামস্ বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, বিমূর্তভাবে নির্বাচন চায় না এমন শক্তির তালিকায় একাধিক রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক গোষ্ঠী যুক্ত হয়েছে। ফ্যাসিস্ট শাসনের প্রতিনিধিরা যেমন নির্বাচন ভয় পায়, তেমনি কিছু ধর্মভিত্তিক ও সুবিধাবাদী গোষ্ঠীও চায় এই অন্তর্বর্তী সরকার অনির্দিষ্টকাল টিকে থাকুক। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—অনৈতিক ও অনাদর্শিক রাজনীতিতে শত্রু-মিত্রের বিভাজন স্থায়ী নয়; প্রয়োজনের তাগিদে তারা যে কোনো সময় একে অপরের পাশে দাঁড়াতে পারে।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে দেশব্যাপী যেভাবে পরিকল্পিত হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও মব সন্ত্রাস শুরু হয়েছে, তা গভীর উদ্বেগজনক। বিপ্লবী নেতা শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড নিঃসন্দেহে একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। কিন্তু হত্যাকারী গ্রেফতার হয়নি। আইনের অপব্যবহার এবং সরকারী উদাসীনতা জনগণকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে।
জরুরি সভায় তিনি বলেন, বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি স্পষ্টভাবে বলতে চায়—অন্তর্বর্তী সরকার কিংবা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী অসহায় নয়। যদি আইন প্রয়োগে দৃঢ়তা থাকত, তবে মব সন্ত্রাস এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারত না। দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্ত করার মাধ্যমে নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচালের অপচেষ্টা দেশকে গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
আজ প্রশ্ন হলো—এই পরিস্থিতিতে গণতন্ত্রকামী শক্তি কি বিচ্ছিন্নভাবে লড়বে, নাকি দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে মব সন্ত্রাসীদের আগুন সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে ঘোষিত সময়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে এই অরাজকতা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে? আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, দেশের আপামর জনগণই এই সংকট মোকাবিলার প্রকৃত শক্তি।
ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার নাজমুল হক অপু বলেন, নির্বাচনই সংকট উত্তরণের একমাত্র সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক পথ। পরিকল্পিত হত্যা, মব সন্ত্রাস এবং নির্বাচনবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি সকল রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ এবং সকল শ্রেণিপেশার জনগণকে আহ্বান জানাচ্ছে—গণতান্ত্রিক ঐক্য বজায় রেখে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। আমাদের collective প্রচেষ্টা ও সচেতন অংশগ্রহণই দেশের জন্য নিরাপদ, স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল ভবিষ্যত নিশ্চিত করবে।


