অনলাইন ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ায় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির মাঝেই নারী এশিয়ান কাপের আগে বাংলাদেশকে সম্মান জানাল চীন। র্যাঙ্কিংয়ে দুই দলের ব্যবধান আকাশ-পাতাল হলেও প্রথম ম্যাচের আগে বাংলাদেশকে মোটেও হালকাভাবে নিতে নারাজ চীনের কোচ আন্তে মিলিসিচ।
১ মার্চ থেকে সিডনি, গোল্ডকোস্ট ও পার্থে শুরু হচ্ছে এএফসি নারী এশিয়া কাপ। বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তান। ৩ মার্চ নিজেদের প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী চীনের মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ রয়েছে ১১২ নম্বরে, আর চীন ১৭ নম্বরে—ব্যবধান ৯৫ ধাপ। তবুও মিলিসিচ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন,
“এখনকার ফুটবলে সবাই শারীরিকভাবে অনেক বেশি ফিট ও সুশৃঙ্খল। প্রথম প্রতিপক্ষ বাংলাদেশকে সম্মান করতেই হবে। তারা এবারই প্রথম এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে—এটি বড় অর্জন।”
চীনের সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ
২০২২ সালে শিরোপা জয়ের পর সময়টা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না চীনের জন্য। FIFA Women’s World Cup-এ গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় তারা। পরবর্তীতে প্যারিস অলিম্পিকেও জায়গা করে নিতে পারেনি দলটি।
গত নভেম্বরে এক প্রীতি ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৮-০ গোলে হার তাদের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দেয়। ফলে এবারের টুর্নামেন্টে নিজেদের পুনরুদ্ধারের মিশন নিয়েই নামছে এশিয়ার শক্তিধর দলটি।
প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বাংলাদেশ
অন্যদিকে বাংলাদেশ নারী দল ২০ ফেব্রুয়ারি সিডনিতে পৌঁছানোর পর থেকেই প্রস্তুতিতে মনোযোগী। গরম আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কোচ পিটার বাটলার দল নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন, যদিও থাইল্যান্ডে বাছাইপর্বের পর কিছু পারফরম্যান্সে অসন্তোষ ছিল তার।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার এ লিগের একটি ক্লাবের বিপক্ষে রুদ্ধদ্বার প্রস্তুতি ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করেছে বাংলাদেশ। ফলের চেয়ে খেলোয়াড়দের ঘুরিয়ে দেখা এবং কৌশলগত পরীক্ষা-নিরীক্ষাই ছিল বাটলারের মূল লক্ষ্য।
ছয় দিন সিডনির ভ্যালেনটাইনস স্পোর্টস পার্কে ক্যাম্প শেষ করে ঋতুপর্ণা-আফঈদারা এখন টিম হোটেলে উঠছেন। প্রস্তুতি প্রায় শেষ, এখন অপেক্ষা মূল লড়াইয়ের।
গ্রুপ পর্বে কঠিন সমীকরণ
চীন ছাড়াও বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তান—দুই দলই এশিয়ান ফুটবলে অভিজ্ঞ। তবে প্রথমবারের মতো মূল পর্বে ওঠা বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাস নিয়েই নামতে চায়।
র্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধান বড় হলেও মাঠের লড়াই যে আলাদা—সেটাই মনে করিয়ে দিলেন চীনের কোচ। এখন দেখার বিষয়, ৩ মার্চের ম্যাচে লাল-সবুজের মেয়েরা কতটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দলকে।


