নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই কারাগার—কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার—অবৈধ কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে। এই দুই কারাগারে প্রভাবশালী ও দুর্ধর্ষ বন্দীর সংখ্যা বেশি। নিরাপত্তা ব্যবস্থার কড়াকড়ি সত্ত্বেও, বন্দীরা অবৈধভাবে মুঠোফোন ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে।
প্রধান পর্যবেক্ষণ:
-
এসবি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির প্রধান এই দুটি কারাগারের বন্দীরা অন্তত ৩৬০টি মুঠোফোন নম্বর ব্যবহার করছেন।
-
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে: ৭৯টি নম্বর
-
কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে: ২৮১টি নম্বর
-
-
মুঠোফোন ব্যবহার করে বন্দীরা:
-
বাইরের মাদক কারবার পরিচালনা করছেন
-
চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছেন
-
রাজনৈতিক নির্দেশনা দিচ্ছেন
-
কারাগার ভাঙার বা পালানোর পরিকল্পনা করছেন
-
নিরাপত্তা দুর্বলতা:
-
এই অবৈধ কার্যক্রমের পেছনে কিছু অসাধু কারা সদস্যের যোগসাজশ রয়েছে।
-
কারাগারগুলোকে “মুঠোফোনে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের নিরাপদ স্থান” হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়টি উদ্বেগজনক।
সুপারিশ:
-
কারাগারে মুঠোফোন ব্যবহারের সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা।
-
নিরাপত্তা প্রক্রিয়া পুনঃমূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা গ্রহণ।
-
কারা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা কর্মীদের বিষয়ে স্বচ্ছতা ও তদারকি বৃদ্ধি করা।
-
নিয়মিত এসবি ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অডিট ও তদারকি চালু রাখা।
কেরানীগঞ্জ ও কাশিমপুর কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও বন্দীদের অবৈধ কার্যক্রম দেশের আইনশৃঙ্খলা এবং সমাজের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তৎপর পদক্ষেপ জরুরি।


