শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬

কেরানীগঞ্জে মা-মেয়েকে হত্যার পর ২১ দিন লাশের সঙ্গে বসবাস, গ্রেফতার দুই বোন

পাঠক প্রিয়

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি

কেরানীগঞ্জে এক শিক্ষিকার বাসা থেকে শিক্ষার্থী কিশোরী জোবাইদা রহমান ফাতেমা (১৪) ও তার মা রোকেয়া রহমানের (৩২) লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশ জানায়, প্রায় ২১ দিন আগে মা-মেয়েকে হত্যা করে বাসার ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় শিক্ষিকা মীম আক্তার (২৪) ও তার আপন ছোট বোন নুসরাত জাহান (১৫)–কে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কেরানীগঞ্জের একটি ভাড়া ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে বাসার একটি কক্ষ তল্লাশি করা হয়। এ সময় খাটের নিচে একটি লাশ দেখতে পেয়ে শিক্ষিকার স্বামী চিৎকার করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রোকেয়া রহমানের লাশ খাটের ভেতর থেকে এবং পরে বাথরুমের ফলস ছাদের ভেতর থেকে তার মেয়ে ফাতেমার লাশ উদ্ধার করে।

প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে সদ্য নবম শ্রেণিতে ওঠা ফাতেমা প্রাইভেট পড়তে শিক্ষিকা মীম আক্তারের বাসায় যায়। দীর্ঘ সময় ফিরে না আসায় সন্ধ্যায় তাকে খুঁজতে ওই বাসায় যান তার মা রোকেয়া রহমান। এরপর থেকে মা-মেয়ে দুজনই নিখোঁজ ছিলেন।

এ ঘটনায় ২৭ ডিসেম্বর রোকেয়ার স্বামী শাহীন আহমেদ কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে ৬ জানুয়ারি অপহরণ মামলা দায়ের করা হলেও লাশ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ঋণের জামিন নিয়ে বিরোধে হত্যাকাণ্ড

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম জানান, নিহত রোকেয়া রহমান শিক্ষিকার প্রতিবেশী ছিলেন এবং একটি এনজিও থেকে নেওয়া দেড় লাখ টাকার ঋণের জামিনদার (গ্রান্টার) ছিলেন তিনি। শিক্ষিকা সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় এনজিও রোকেয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।

ওসি জানান, ঘটনার দিন বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ফাতেমা প্রাইভেট পড়তে এলে শিক্ষিকার ছোট বোন নুসরাতের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নুসরাত ফাতেমার গলা চেপে হত্যা করে। পরে সিসিটিভি ক্যামেরা ফাঁকি দিতে ফাতেমার জামা খুলে নুসরাত তা পরে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়, যেন মনে হয় ফাতেমা বাসা ছেড়ে চলে গেছে।

এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর শিক্ষিকা মীম রোকেয়াকে ফোন করে জানান, তার মেয়ে অসুস্থ। মেয়েকে নিতে এলে বাসায় ঢোকার পর নুসরাত ও মীম দুজন মিলে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে রোকেয়াকে হত্যা করে।

বাসায় স্বাভাবিক জীবনযাপন

হত্যার পর ফাতেমার লাশ বাথরুমের ফলস ছাদের ভেতর এবং রোকেয়ার লাশ বক্স খাটের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়। লাশ বাসায় রেখেই তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিল। এমনকি গত ৬ জানুয়ারি শিক্ষিকার তিন বছরের ছেলের জন্মদিন উপলক্ষে পুরো পরিবার ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নানাবাড়িতেও যায়।

শিক্ষিকার স্বামী পেশায় রংয়ের ডিলার। বাসায় দুর্গন্ধ নিয়ে প্রশ্ন করলে স্ত্রী জানান, বাইরে কোনো কুকুর মরে থাকায় গন্ধ আসছে। পরে গন্ধ সহ্য করতে না পেরে তিনি নিজেই ঘর তল্লাশি করলে লাশের সন্ধান পান।

পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ

নিহত রোকেয়ার স্বামী ও মামলার বাদী শাহীন আহমেদ অভিযোগ করেন,
“আমি বারবার বলেছি ওই ফ্ল্যাট সার্চ করতে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বা কললিস্টও বিশ্লেষণ করেনি। এগুলো করলে অন্তত অনেক আগেই লাশ পাওয়া যেত।”

তিনি ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

আদালতে প্রেরণ, নাবালিকাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হবে

ওসি সাইফুল আলম জানান, গ্রেফতার দুই বোন হত্যার দায় স্বীকার করেছে। শুক্রবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। আসামি নুসরাত জাহান (১৫) নাবালিকা হওয়ায় তাকে গাজীপুরের কোনাবাড়ি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত চলছে।

সর্বশেষ সংবাদ

‘সার্ভিস’ শব্দের বিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু কী মানুষের মুক্তি ঘটেছে?

সুফি সাগর সামস্ ভাষা, ক্ষমতা ও মানবমর্যাদা নিয়ে একটি পুনর্বিবেচনা সভ্যতার ইতিহাসে শব্দ কখনো কেবল শব্দ নয়; তারা একটি যুগের সামাজিক...

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, জরুরি সংবাদ সম্মেলন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা, শুক্রবার: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। ইতোমধ্যে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের...

মানবমস্তিষ্ক: মহাবিশ্বের ভেতর আরেক মহাবিশ্ব

সুফি সাগর সামস্ মহাবিশ্বের সবচেয়ে বিস্ময়কর সৃষ্টি কি কোনো নক্ষত্র, গ্যালাক্সি বা কৃষ্ণগহ্বর? হয়তো নয়। হয়তো সবচেয়ে বিস্ময়কর কাঠামো হলো মানবমস্তিষ্ক—কারণ এই ক্ষুদ্র জৈবিক অঙ্গই সমগ্র মহাবিশ্বকে...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হারিয়ে গেলে স্বাধীনতার মূল্যবোধও হারাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখা না গেলে একসময় স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্যবোধও হারিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ...

এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না : ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সুশৃঙ্খল করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের লক্ষ্যে একগুচ্ছ প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে...

জনপ্রিয় সংবাদ