
ইমতিয়াজ মারুফ সোহেল : খোলা আকাশের নিচে সারি সারি বিদ্যুতের তারে প্রায়ই দেখা যায় অসংখ্য পাখি নিশ্চিন্তে বসে আছে। অথচ ওই তারের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে প্রায় চার লাখ ভোল্ট পর্যন্ত বিদ্যুৎ! প্রশ্ন জাগে, এত উচ্চ ভোল্টেজের মধ্যে থেকেও কেন পাখিরা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় না?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর কারণ বিদ্যুতের প্রবাহের পথ এবং বৈদ্যুতিক বিভবের (potential difference) পার্থক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিদ্যুৎ সবসময় উচ্চ বিভব থেকে নিম্ন বিভবের দিকে প্রবাহিত হয়। পাখি যখন একটি মাত্র তারের ওপর বসে থাকে, তখন তার দুই পা একই বিভবে থাকে—অর্থাৎ, উভয় পায়ের মধ্যে কোনো ভোল্টেজ পার্থক্য তৈরি হয় না। ফলে তার শরীর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় না এবং সে শক খায় না।
তবে পাখি যদি একই সঙ্গে দুটি ভিন্ন তার স্পর্শ করে—অর্থাৎ, দুটি আলাদা বিভবের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে—তাহলে বিদ্যুৎ তার শরীরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হবে, যা সঙ্গে সঙ্গে প্রাণঘাতী শক সৃষ্টি করতে পারে।
এছাড়াও, যদি পাখি কোনো তারে বসে থাকা অবস্থায় তার ডানা বা দেহের অন্য কোনো অংশ দিয়ে কাছাকাছি থাকা লোহার খুঁটি বা ট্রান্সফরমারের সংস্পর্শে আসে, তাহলেও মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বিদ্যুৎ প্রকৌশলীরা বলেন, এ কারণেই বিদ্যুৎ খুঁটির নকশায় তারগুলোর মাঝে যথেষ্ট দূরত্ব রাখা হয়, যাতে পাখি বা অন্য প্রাণীরা একসঙ্গে দুটি তার স্পর্শ করতে না পারে।
পাখিরা শক খায় না কারণ তারা একসময়ে কেবল একটিমাত্র বিদ্যুতের তার স্পর্শ করে—যেখানে বিদ্যুতের প্রবাহের জন্য কোনো বিভব পার্থক্য তৈরি হয় না। কিন্তু সামান্য ভুলে দ্বিতীয় তারে ছোঁয়া মানেই মৃত্যুঝুঁকি নিশ্চিত।


