সুফি সাগর সামস্

মুসলিম উম্মতের অন্তরে নবী করিম সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি অভূতপূর্ব মহব্বত ও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ ঘটে ক্বিয়ামে মিলাদ শরীফের মাধ্যমে। তবে কি কখনও ভেবে দেখেছেন—এই মাহফিলের পেছনে কুরআনিক ভিত্তি ও আধ্যাত্মিক কারণ কী?
কুরআনুল করিমের নির্দেশনা
সূরা আহযাব (৩৩:৫৬)-এ মহান আল্লাহতা‘লা ইরশাদ করেছেন:
“ইন্নাল্লা-হা ওয়া মালাইকাতাহু ইউ সল্লুনা আলান নাবীয়্যি; ইয়া আইয়্যুহাল্লাজিনা আ-মানু সল্লু আলাইহি ওয়া সল্লিমু তাসলিমা।”
অর্থাৎ, আল্লাহ ও তাঁর ফিরিশতাগণ নবী করিম ﷺ–এর প্রতি দরূদ ও সালাম প্রেরণ করেছেন, করছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। এছাড়া ঈমানদার মুসলমানদেরও নবীজি ﷺ–এর সম্মানে দরূদ ও সালাম পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন।
ব্যাকরণিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই আয়াত বহুবচন ও তিন কাল (অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ) নির্দেশক। এতে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়—দরূদ ও সালাম একক নয়, সম্মিলিত ও ধারাবাহিক ইবাদত।
ক্বিয়ামে মিলাদ শরীফের ধারা
আউলিয়া কিরামগণ এই কুরআনিক নির্দেশনার আলোকে ক্বিয়ামে মিলাদ শরীফের পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মাহফিল সাধারণত তিন পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয়—
১. যিকির ও দরূদ শরীফ:
মহান আল্লাহতা‘লার যিকির ও নবীজি ﷺ–এর মহব্বতের সঙ্গে তাযীমের মাধ্যমে দরূদ পাঠ।
২. ক্বিয়ামের মাধ্যমে সালাতুস সালাম:
নবী করিম ﷺ–এর সম্মানে দাঁড়িয়ে সালাম প্রেরণ।
৩. উসিলা সহ দু‘আ-মুনাজাত:
নবীজি ﷺ–এর উসিলায় নিজের ও সমগ্র উম্মতের মাগফিরাত কামনা।
ক্বিয়ামে অংশগ্রহণকারীরা শুধু নবীজির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন না; এটি তাদের ঈমান ও অন্তরের মহব্বতের প্রকাশ।
সালামের বহুমাত্রিক তাৎপর্য
সালাম শুধু সম্ভাষণ নয়। এটি অভিব্যক্তি—দু‘আ, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সম্মানের। প্রেক্ষাপটভেদে অর্থ ভিন্ন হয়—
-
ছোটদের জন্য: স্নেহ ও দু‘আ
-
মাতা-পিতা, বুজুর্গদের জন্য: আদব, তাযীম
-
বন্ধু ও সহকর্মীদের জন্য: ভদ্রতা
-
আউলিয়া ও নবীদের জন্য: সম্মান ও মহব্বত
-
নবী করিম ﷺ–এর জন্য: মহব্বত ও মাগফিরাত কামনা
নবী করিম ﷺ–এর প্রতি সালাম প্রদান মানে হলো উম্মতের পক্ষ থেকে ভালোবাসা, আনুগত্য ও সম্মান প্রদর্শন।
ফিরিশতাদের মাহফিল
মহান আল্লাহতা‘লা মি‘রাজের প্রাক্কালে নির্দেশ দেন—ফিরিশতারা নবীজি ﷺ–এর জন্য দরূদ ও সালাম পাঠ করুন। এটি তাঁদের আধ্যাত্মিক মর্যাদা বৃদ্ধি করে। যেমন রাষ্ট্রপতির গার্ড রাষ্ট্রপতিকে সালাম দিয়ে গৌরবান্বিত হয়, তেমনি বায়তুল মামুরের ফিরিশতারা নবীজি ﷺ–এর উদ্দেশ্যে সালাম প্রেরণ করে সম্মান অর্জন করেন।
বসা অবস্থায় এই মাহফিল করা সম্ভব নয়; তাই ক্বিয়ামে মিলাদ শরীফ দাঁড়িয়ে (ক্বিয়ামের মাধ্যমে) অনুষ্ঠিত হয়।
ক্বিয়ামে মিলাদ শরীফ কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়। এটি কুরআন অনুসারে নবী করিম ﷺ–এর প্রতি মহব্বত, সম্মান ও আনুগত্যের প্রকাশ। এতে অংশগ্রহণকারীরা ঈমান, অন্তরের ভালোবাসা এবং আধ্যাত্মিক প্রশান্তি লাভ করেন।
নবীজির প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠের এই ঐতিহ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রকাশই সেরা ইবাদত।
সুফি সাগর সামস্
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপি।


