
কিয়ামত শব্দের অর্থ “উঠে দাঁড়ানো”, পৃথিবী ধ্বংস বা শেষ হয়ে যাওয়া নয়! মুসলিম ধর্মে যেটা বলা হয়েছে, কিয়ামত মানে “দণ্ডায়মান হওয়া” বা “পুনরুত্থান”। ইসলামি বিশ্বাস অনুসারে, এটি এমন একটি দিন যখন সমস্ত মৃতকে পুনরুত্থিত করা হবে এবং তাদের পার্থিব জীবনের কর্মের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। কিয়ামতকে প্রায়শই “হাশরের দিন” বা “বিচার দিবস” হিসেবেও উল্লেখ করা হয়, কারণ এই দিনে সব মানুষকে একত্রিত করা হবে এবং তাদের আমলনামা অনুযায়ী জান্নাত বা জাহান্নামে পাঠানো হবে। আল কুরআনে বলা হয়েছে, তোমরা সত্য আলোর জগতের (এলহাম) অদৃশ্য বার্তাপ্রাপ্ত মানুষের নিকট থেকে সত্য জেনে নিও।
কিয়ামত হলে কি উঠে দাঁড়াবে? মূলতঃ চারটি যুগ মিলে হয় ৩৮ হাজার বছর। কলিযুগ তার মেয়াদ কাল থাকে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ বছর এর মত। এই ভাবে প্রতিটি কলিযুগ শেষ হয়ে মুল সত্য যুগ শুরু হলে তখন সূর্য পশ্চিম দিক হতে উঠে আবার পূর্ব দিকে স্বাভাবিক হয়ে যায়। আর এই সময় পৃথিবী চুম্বুক ক্ষেত্র পরিবর্তন হলে পৃথিবীর প্রকৃতি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। অনেক ধ্বংস হয়। ভুমিকম্প হয়।আগ্নেয়গিরি বৃদ্ধি পায়। হঠাৎ করে যেখানে সেখানে কোনো কোনো দেশ আগুনে পুড়ে ছাই হয়। উল্কা ঝড় বা বৃষ্টি হয়। ইতিপূর্বে আগ্নি বৃষ্টি হয়েছে। সমুদ্রের পানি উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে, অনেক অঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে যাবে।
ইতিপূর্বে সূর্য পশ্চিম দিক হতে উঠেতে জীব থেকে উদিত হয়েছে, জীব ও উদ্ভিদের অসংখ্য প্রজাতি ধ্বংস হয়েছিল। অসংখ্য মানব জাতি ধ্বংস হয়েছিল। কারণ, পৃথিবী ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছিল।
সাবধান! পৃথিবী কিন্তুু কাঁপতে থাকবে, ভয় পাবেন না। এমন হতে পারে তিন দিন বা সাত দিন একটানা কাঁপতে থাকবে বা দের দিন কাঁপতে পারে।
কলিযুগ শেষ হয়ে মূল সত্যযুগ শুরু হয়েছে। এই কারণে মুহাম্মাদ নবী বলেছেন, সূর্য পশ্চিম দিক হতে উঠলে দুয়া কবুল হবে না। নামাজ থাকবে না, ইবাদত কবুল হবে না। পূর্বের কলিযুগের দায়িত্বের প্রতি ঈমান আকিদা বাতিল হয়ে যাবে। কারণ, যুগকে কেন্দ্র করে যে ধর্মদর্শন প্রচলিত ছিল সেটা বাতিল হয়ে যায় মূল সত্যযুগ শুরু হলে।
সত্যযুগে লুৎ (আ) মুসলিম জাতির মূল দায়িত্ব লাভ করবেন। পাশাপাশি বড় পীর আব্দুল কাদির জিলানী (র) দায়িত্ব লাভ করবেন। পাশাপাশি অনেকে দায়িত্ব পেয়ে নিজ নিজ কার্য পরিচালনা করবেন।
সত্যযুগে তিনটি প্রকাশিত তরিকা থাকবে। আর এই তিনটি তরিকা সরাসরি ইব্রাহিম (আ) এর মূল আলোর জগতের লাইনআপ প্রকাশিত তরিকা বলা হয়।
(১) আজমান কাদির নুর তরিকা। এই তরিকা বড় পীর আব্দুল কাদির জিলানী (র) দায়িত্ব নিয়ে পরিচালনা করবেন । এই তরিকা শরিয়ত এবং মারিফতের সমন্বয়ে সামাজিক বিধিনিষেধ এবং বিধিমালা মেনে পরিচালনা করবেন।
(২) আজমান কাদির খিদিরি নুর তরিকা। এই তরিকা লুৎ (আ) পরিচালনা করবেন। এই তরিকা শরিয়ত এবং মারিফতের সমন্বয়ে পরিচালনা করবেন। সামাজিক বিধিনিষেধ এবং বিধিমালা প্রনয়নের মাধ্যমে পরিচালনা করবেন।
(৩) আজমান কাদির নুরে আলম কলন্দর তরিকা। এই তরিকা সরাসরি ইব্রাহিম (আ) তিনি পরিচালনা করেন।
আজমান কাদির নুরে আলম কলন্দর তরিকা। এই তরিকা মারিফতের সমন্বয় পরিচালিত তরিকা। এই আজমান কাদির নুরে আলম কলন্দর তরিকায় শরিয়ত থাকবে না। কিন্তুু সামাজিক নিয়ম রক্ষা করে পরিচালিত হবে।
সত্যযুগে নামাজ পাঁচ ওয়াক্ত থাকবে। শুধু এশার নামাজ পরিবর্তন হবে। এশার নামাজের সময় তাহাজ্জুদ নামাজ পড়বে। যহোর নামাজ থাকবে, কিন্তুু গুরুত্ব কম থাকবে। রোজা যেমন আছে, তেমনি থাকবে। মূল কেবলা বাতুল মোকাদ্দাস। সানি কেবলা বলা হয় মসজিদে কুবা।
মূল সত্যযুগে আল কুরআনের বেশিরভাগ বড় সুরা থাকবে না। বাদ হয়ে যাবে। ছোট সুরা অধিকাংশ থাকবে। লাহাব সুরা বাদ হয়ে যাবে। বাকি বিষয় লুৎ (আ) এসে সিদ্ধান্ত দিবেন। পাশাপাশি বড় পীর আব্দুল কাদির জিলানী (র) মতামত দিবেন।
ঐশী বানীঃ আব্দুল্লাহ আল রায়েদ, কুতুবিয়া কলন্দর
#Highlight
ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।


