অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু এবং এর পরবর্তী সময়ে সংঘটিত ধারাবাহিক মব সন্ত্রাসের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি (বিএইচপি)। দলটির অভিযোগ, সরকার মব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে।
বিএইচপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুফি সাগর সামস এক বিবৃতিতে বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর থেকেই দেশে ধারাবাহিকভাবে মব সন্ত্রাস চলছে। কখনো ‘তৌহিদী জনতা’, কখনো ‘ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে এসব সহিংসতা পরিচালিত হলেও সরকার ও সেনাবাহিনী কার্যত নীরব ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বলেন, “সরকারের আচরণে প্রতীয়মান হয়—মব সন্ত্রাস সরকারের অজ্ঞাতসারে নয়, বরং আশকারাতেই হচ্ছে। সরকার যেন মব সন্ত্রাসীদের কাছে অসহায়।”
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। প্রতিটি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। অথচ শহীদ হাদির মৃত্যুতে শোক পালনকালে ডেইলি স্টার, প্রথম আলোসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং বরেণ্য সাংবাদিক নূরুল কবীরসহ অনেকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরে দেশের সম্পদ ধ্বংস করা হয়েছে।
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি এই সকল মব সন্ত্রাসের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দাবি জানায়—অবিলম্বে শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রতিটি মব সন্ত্রাসের ঘটনায় দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।
বিএইচপির অভিযোগ, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের পতনের পর সরকারের প্রধান দায়িত্ব ছিল জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল সমাজ গঠন করা। কিন্তু সরকার সে পথে না গিয়ে মব সন্ত্রাসকে ‘প্রেশার গ্রুপ’ হিসেবে বিবেচনা করে পরোক্ষভাবে লালন-পালন করেছে।
বিবৃতির শেষাংশে বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলে, সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে এবং সরকারকে অবিলম্বে মব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।


