সোহানা খান

স্রষ্টা এক ও অদ্বিতীয়। তাঁর কোন আকার নেই। তিনি নিরাকার।
তাহলে তাঁর হাত, পা, মুখ বা অন্যকিছু কীভাবে থাকবে? তিনি তো অদৃশ্য এক মহা শক্তি, যিনি শুধু এই পৃথিবীই নয়, বরং বিশাল ঐ মহাশূন্য সৃষ্টি করেছেন। এই যে আমি স্রষ্টাকে তিনি বলে সম্বোধন করছি, তিনি কী মানুষ গোত্রীয় কিছু? অবশ্যই না। কারণ, তিনি এতোই বিশাল যে, তাঁকে কল্পনা করাও মানুষের অসাধ্য ব্যাপার। শুধু মনের বিশ্বাস থেকেই আমরা তাকে ভেবে নিচ্ছি- তিনি হয়তো এরকম কিংবা ঐরকম। এছাড়া আর কিছু নয়। আসলে, আমরা কেউই তার স্বরূপ জানি না।
যে স্রষ্টা এই মহাশূন্যের মালিক, তার নিকট মানুষ কেন, এই পৃথিবীটাই তো ধূলিকণা সম, তাই না?
তো, মানুষের মুখের কথায় ঐ মহা শক্তির কীইবা আসে যায়!
স্রষ্টা কারো একার নয়, নয় কোন নির্দিষ্ট ধর্ম বা শ্রেণি, পেশার। স্রষ্টা সকলের। তিনি উন্মুক্ত, তিনি বাধাহীন। তাকে কোন বাঁধনেই বাঁধা সম্ভব নয়। তাকে কোন গোত্রে আটকানো যায় না।
তাই, স্রষ্টাকে নিয়ে মানুষের এতো মারামারি, কাটাকাটি এসবের পুরোটাই অর্থহীন। শুধু মানুষ কেন, ঐ বৃক্ষ-লতা, কুকুর, বেড়াল কিংবা সাপ, ব্যাঙ, পিঁপড়েও তো তাঁরই সৃষ্টি ;
সকলের মাঝেই তিনি বিরাজমান।
তো, একটি পিঁপড়েকে মেরে ফেলার অধিকার কী আমরা রাখি?


