নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে রাজধানীর বাজারে এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিকতা ফিরে আসেনি। অনেক দোকানপাট বন্ধ থাকায় বাজারে সরবরাহ কম, ক্রেতার উপস্থিতিও স্বাভাবিক দিনের তুলনায় কম। তবে ক্রেতা কম হলেও নিত্যপণ্যের দামে তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি; বরং অধিকাংশ পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।
রাজধানীর মিরপুর-১১ ও মিরপুর-৬ কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, এখনো পুরোপুরি সক্রিয় হননি অনেক ব্যবসায়ী। এতে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে ঈদের ছুটি শেষে অনেক ক্রেতা এখনো ঢাকায় না ফেরায় বাজারে লেনদেনও কম। তবুও দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই।
বিক্রেতারা জানান, পাইকারি বাজারে দাম কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়ছে। বাজার পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত মূল্যস্থিতি ফিরে আসার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন তারা।
মুরগির বাজারে সবচেয়ে বেশি চাপ
সবচেয়ে বেশি মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে মুরগির বাজারে।
- সোনালি মুরগি: ৩৫০ টাকা/কেজি
- লেয়ার মুরগি: ৩৭০ টাকা/কেজি
- দেশি মুরগি: ৭০০ টাকা/কেজি
- ব্রয়লার: ২০০–২২০ টাকা/কেজি
বিক্রেতাদের ভাষ্য, খামার থেকে বাজার পর্যন্ত পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দাম কমানো যাচ্ছে না। জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়ছে পণ্যমূল্যে।
মাছ-মাংসের বাজারও চড়া
- গরুর মাংস: ৭৫০–৮০০ টাকা/কেজি
- খাসির মাংস: প্রায় ১,২০০ টাকা/কেজি
মাছের মধ্যে—
- রুই: ৩০০–৩৫০ টাকা
- কাতলা: ৩২০–৩৫০ টাকা
- পাঙাশ: ১৮০–২০০ টাকা
- তেলাপিয়া: ১৮০–২২০ টাকা
- চিংড়ি: ৬৫০–৭৫০ টাকা
এছাড়া মাঝারি আকারের কই ২০০–২৫০, দেশি শিং ৬৫০–৭৫০, শোল ৬৫০, সুরমা ৩৫০ এবং পাবদা ৩৫০–৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চাল ও সবজির বাজারে অস্বস্তি
চালের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে—
- মিনিকেট (মঞ্জুর/সাগর ব্র্যান্ড): ৮৫–৮৮ টাকা
- রশিদ মিনিকেট: ৭৫–৮০ টাকা
- নন-ব্র্যান্ড মিনিকেট: ৭০ টাকা
- প্রিমিয়াম মিনিকেট: ৯০ টাকা
সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই। ঈদের আগেই বাড়া দাম এখনো বহাল রয়েছে।
- করলা: ১৬০ টাকা
- বরবটি: ৮০ টাকা
- ঢ্যাঁড়শ: ৮০ টাকা
- কাঁচা মরিচ: ১৪০–১৬০ টাকা
- পটোল: ৮০ টাকা
- শসা: ৬০–৭০ টাকা
এছাড়া টমেটো ৩০–৫০, গাজর ৫০–৬০, মুলা ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাউ প্রতি পিস ৭০–১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কিছু পণ্যে স্বস্তি
তবে পিঁয়াজ ও আলুর বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।
- পিঁয়াজ: ৪০–৫০ টাকা/কেজি
- আলু: প্রায় ২০ টাকা/কেজি
স্বাভাবিকতায় ফিরলে কমতে পারে দাম
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া এবং ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের পূর্ণ উপস্থিতি নিশ্চিত হলে বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে। তবে জ্বালানি খরচ ও পরিবহন ব্যয় না কমলে দীর্ঘমেয়াদে দামের ওপর চাপ থেকেই যাবে।


