
দেশে ইসলামি শাসনতন্ত্র কায়েম করার উপযুক্ত সময় হয়েছে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুফি সাগর সামস্। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলাম, আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন (চরমোনাই), হেফাজতে ইসলাম এবং তরিকতপন্থী বিভিন্ন দরবারের পীর মাশ্বায়েখদের ইসলামি সংবিধান মদিনা সনদের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ক্ষমতাসীন হতে হবে। অন্যথায়, অব্যাহতভাবে শোষণতান্ত্রিক শাসনের রোষানলে পিষ্ঠ হতে হবে।
অদ্য ২২ অক্টোবর ২০২৫ বুধবার সকালে বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপির নরসিংদী জেলা শাখার একটি প্রতিনিধি দল রাজধানীর পুরানা পল্টনে বিএইচপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যন সুফি সাগর সামস্ এর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে দেশে ইসলামি শক্তিকে ক্ষমতাসীন করতে করণীয় সম্পর্কিত মতবিনিময় সভায় সুফি সামস্ উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ভোটের আশায় যেভাবে পূজামন্ডপে যাচ্ছেন, তাদের মন্ত্র পাঠ করছেন, একইভাবে তরিকতপন্থী বিভিন্ন দরবারের অনুষ্ঠানসমূহে অংশগ্রহণ করে তাদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য মতবিনিময় করতে পারেন। এই মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পথে একধাপ এগিয়ে যেতে পারবেন। এর ফলে জাতীয় রাজনীতিতে ইসলামি শক্তির প্রভাব বিস্তার ঘটবে।
ইসলামি সংবিধান মদিনা সনদের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ইসলামি দলের আপত্তি থাকার কথা নয় বলে মন্তব্য করেন, বিএইচপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ আইন প্রণেতা ও আইন প্রয়োগকারী ছিলেন, মহানবী হযরত মুহম্মদ (স)। তিনি ছিলেন, আধুনিক রাজনীতি ও শাসনতন্ত্রের জনক। তিনি পৃথিবীতে জনগণের ভোটে রাষ্ট্রনায়ক নির্বাচন প্রথার প্রচলন করেছিলেন। এর পূর্বে জনগণের ভোটে রাষ্ট্রনায়ক নির্বাচনের প্রথা ছিল না।
মতবিনিময় সভায় সুফি সাগর সামস্ বলেন, হযরত মুহম্মদ (স) প্রণিত এবং মহান আল্লাহর অনুমোদিত পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ উদারচিন্তার অসাম্প্রদায়িক বহুত্ববাদী সংবিধান “মদিনা সনদ”। এই সংবিধানের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় শাসনতন্ত্র কায়েম করেছিলেন, রসুল (স)। কিন্তু নবীজির ইন্তেকালের পর জনগণের ভোটাধিকার বঞ্চিত করে খিলাফতের শাসনব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছিল। এর ফলে ইসলাম দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এক পক্ষে হযরত আবু বকরের (রা) নেতৃত্বে উমাইয়া কুরাইশ বংশভিত্তিক ইসলাম, অন্যপক্ষে হযরত আলীর (রা) নেতৃত্বে আরবের শোষিত বঞ্চিত গরীবদুঃখী নবীপ্রেমিক মুসলমান। এই বিভক্তি বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে। মুসলমানদের এই বিভক্তি থেকে মুক্তি পেতে হবে। অন্যথায়, কস্মিণকালেও ইসলামি শক্তি ক্ষমতাসীন হতে পারবে না।
বিএইচপির ভাপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, যারা রাষ্ট্রীয় শাসনতন্ত্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তাদেরকে হতে হবে আকাশের মত উদার, তাদের অন্তরে থাকতে হবে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণিপেশার জনগণের প্রতি নিজ সন্তানের মত মমত্ববোধ। ইসলামি দলের নেতৃবৃন্দের কি হয়েছে, তারা হিন্দুদের পূজা অনুষ্ঠানে যেতে পারেন আর মুসলমানদের উরশ-ফাতিহা অনুষ্ঠানে যেতে পারেন না, ইসলামি নেতৃবৃন্দের এই মানসিকতা কেন? তাদেরকে এই হীনমন্যতা থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে।
তিনি আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির, হেফাজতে ইসলাম, হিজবুত তাওহীদ, ইসলামী আন্দোলন (চরমোনাই), খিলাফত মজলিশ, তরিকত ফেডারেশন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি-বিএসপি, মাইজভাণ্ডারী, সুরেশ্বর, নুরুল্লাপুর, চন্দ্রপাড়া, জাকের পার্টি-আটরশি, দেওয়ানবাগী, কুতুববাগী ইত্যাদি দরবারের সদস্যবৃন্দ এবং অসংখ্য মাদ্রাসার উলামায়ে কিরাম ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মহানবী মুহম্মদ (স) এর শাসনতন্ত্র কায়েম করতে হবে।
সুফি সামস্ বলেন, বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপি মদিনা সনদের ভিত্তিতে ধর্ম, বর্ণ, বির্বিশেষে সকল জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে মহানবী মুহম্মদ (স) এর অনুকরণে রাষ্ট্রীয় শাসনতন্ত্র কায়েম করতে চায়। নবীজির এই শাসনব্যবস্থায় সকল নাগরিকের সমানমর্যাদা এবং সকলে একই আইনের সুরক্ষার বন্ধনে আবদ্ধ থাকবে। নবীজির শাসনব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বৈষম্য ও শোষণমুক্ত। বিএইচপি বৈষম্য ও শোষণমুক্ত শাসনতন্ত্র কায়েম করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপির প্রেসিডিয়াম সদস্য, মোঃ ফজলুল বারী, ভাইস চেয়ারম্যন, খন্দকার নাজমুল হক অপু, মুজিবুর রহমান চিশতী, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ইব্রাহিম খলিল বাদল, মোঃ আইয়ুব আলী, মোঃ রেজাউল করিম, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ফরিদ আহমেদ, দফতর সম্পাদক মোঃ খুরশীদ আলম সরকার, কেরাণীগঞ্জ থানার সভাপতি, মোঃ এমরান খান, নরসিংদী জেলা শাখার আহবায়ক হারুন অর রশিদ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন।


