নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হয়ে উঠেছে ইসলামি দলগুলোর ঐক্য। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি ইসলামপন্থি দল ইতোমধ্যে যৌথ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মাঠে নেমেছে। জুলাই জাতীয় সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার পক্ষে জনমত গঠনসহ পাঁচ দফা দাবিতে তারা দেশব্যাপী আন্দোলনও জোরদার করেছে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, জামায়াত সর্বোচ্চ সমঝোতা করেই নির্বাচন করবে। ডিসেম্বরের শুরুতেই আশা করি সবাই মিলে প্রার্থী ঘোষণা করব। কে কত বেশি আসনে নির্বাচন করবে, এর চেয়ে বেশি জরুরি কার কয়টি আসনে জিতে আসার আত্মবিশ্বাস, জনসমর্থন ও সামর্থ্য রয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিটি আসনে আমাদের জামায়াতের জেলা, উপজেলা পর্যায়ে ওই প্রার্থীর জন্য কাজ করবে। আমাদের সমঝোতায় টার্গেটই থাকবে প্রার্থীকে জিতিয়ে আনা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের শীর্ষ এক নেতা বলেন, ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আমাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। কোন দল কত আসন পাবে সেটা ওই সময় বলা যাবে। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশসহ অন্যান্য দলগুলোকে শতাধিক আসন ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এক আসনে এক প্রার্থী: নির্বাচনি কৌশলে নতুন মোড়
দলগুলোর মধ্যে সমন্বিত কৌশল হিসেবে সামনে এসেছে ‘এক আসনে এক প্রার্থী’–নীতি। নির্বাচনে বিভক্ত ভোট এড়াতে প্রতিটি আসনে একটি করে সমন্বিত প্রার্থী দাঁড় করানোর প্রস্তুতি চলছে। এজন্য চলতি সময়ে আসনভিত্তিক জরিপ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই দলগুলোর যৌথ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।
জামায়াত-বিএনপি সম্পর্কের দূরত্ব ও নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ
আগামী নির্বাচনে বিএনপির অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়। একসময় বিএনপির ঘনিষ্ঠ মিত্র জামায়াতের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে দূরত্ব বেড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে জামায়াতসহ ইসলামি ধারা অনুসারী দলগুলো পারস্পরিক রাজনৈতিক সমঝোতার পথে হেঁটে একটি শক্তিশালী ব্লক গঠনের চেষ্টা করছে।
ঐক্যবদ্ধ জোটে আট ইসলামি দল
এ উদ্যোগে অংশ নেওয়া দলগুলো হলো—
-
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
-
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই পীর)
-
খেলাফত মজলিস
-
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
-
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন
-
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি
-
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)
-
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)
নির্বাচনে ইসলামি ভোটব্যাংকের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই ঐক্য, এমন বিশ্লেষণ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
সম্ভাব্য প্রভাব
ইসলামি দলগুলোর এমন সমন্বিত উদ্যোগ নির্বাচনি মাঠে নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে বিএনপির ভোটক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। অন্যদিকে ঐক্যবদ্ধ ইসলামি প্ল্যাটফর্ম একটি উল্লেখযোগ্য তৃতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে—এমনটাও যুক্ত করছেন বিশ্লেষকরা।


