সোহানা খান

আলেম অর্থ জ্ঞানী। জ্ঞানীরা পৃথিবী এবং পৃথিবীর মানুষ সমাজ ও রাষ্ট্রের মর্যাদা বাড়ায়, সমাজের সকল কর্মকাণ্ডে তাদের অবদান থাকে আকাশতূল্য, জ্ঞানীরা হয় সভ্য, ভদ্রতার আইডলের প্রতীক , জ্ঞানীরা শিক্ষা ও সভ্যতার পরম গন্তব্য বলে বিবেচিত হয়।
আমাদের দেশের কিছু আলেম নামের জ্ঞানীরা শিশু বলৎকার, নারী ধর্ষন, শিশু নির্যাতন, নারী নির্যাতন, কিশোরীদেরকে ধর্ষন করে। আত্মীয়-স্বজন, ভাই- বোনদের হক মেরে খায়, এতিমের হক মেরে খায়, মসজিদ- মাদ্রাসার টাকা মেরে খায়, সুদখোর ঘুষখোরের পকেটের টাকা নিয়ে খায়, সবচেয়ে জঘন্য কাজ এদের দ্বারাই সংগঠিত হয়। সুদ ঘুষখোরদের বাড়ি থেকে টিফিনক্যারিয়ার ভরে আসা হারাম খাবার তারাই বেশী খায়।
নামাজ পড়িয়ে কুরআনের আলোচনা করে টাকা খায়। বাল্য বিবাহ করে ॥ স্ত্রীদের নির্যাতন করে। সদাকা ফেতরা লিল্লা খায়॥ মসজিদের নামে টাকা তুলে খায়, এতিমখানার নামে টাকা তুলে খায়॥ বাড়ি বাড়ি মিলাদ পড়িয়ে খায়॥ ঝাড়- ফুক, তাবিজ- কবজের নামে টাকা খায়। কথায় কথায় একে অন্যের গিবত করে, কুৎসা রটায়, কুরআনের ওয়াজ করার কথা বলে হিন্দি গান গায়, কথায় কথায় নারীদেরকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে, নারীদেরকে জাহান্নামি বলে, অন্য ধর্ম বিশ্বাসীদেরকে নোংরা কথা বলে, ঘৃণা করতে বলে।
এদেশের আলেমদের কোন জ্ঞানটা আছে, যা আদর্শবানী হিসাবে শিক্ষা নেওয়া যেতে যায় বা সেই আলেমকে অনুসরণ করা যায়? কি কারনে অনুসরণ করা যেতে পারে – যুক্তি দিয়ে বলুন?
পৃথিবীর কেউ এখন আর দক্ষিন এশিয়াসহ মুসলমানদেরকে দেখতে পারে না, সকল সভ্য সম্প্রদায় এই মুসলমানদেরকে ঘৃণা করে॥ আসলে মুসলমানদেরকে ঘৃণা করে না, ঘৃণা করে মুসলমানদের বর্বরতাকে, তাদের আচার- ব্যবহার, কার্যকলাপকে। অথচ পৃথিবীর সকল সভ্য সম্প্রদায়েরই মুসলিমদের প্রতি বুজুর্গ ব্যক্তি মনে করে সহানুভূতি ছিলো, কিন্তু মুসলমানদের কুকৃতকর্মে জন্য তারা ধীরে ধীরে ঘৃণা করা শুরু করলো, তারা আতঙ্কিত হতে লাগলো, তারা ভয় পাওয়া শুরু করলো। তারপর আজ পৃথিবীর সকল সভ্য সমাজ মুসলমানদেরকে পৃথিবীর সভ্যতা, ভদ্রতা, কৃষ্টি, কালচার, সমাজ ব্যবস্থার জন্য হুমকি মনে করে বয়কট করবার ডাক দিতে লাগলো॥ মুসলমানদের জন্য পৃথিবী আজ অন্ধকার, এর সকল দায়ভার একমাত্র ধর্ম ব্যবসায়ী মোল্লাদের বর্বর কথাবার্তা, আচার আচরণের জন্য সংগঠিত হয়েছে॥
যারা এই ধর্মব্যবসায়ী, জালিম, জাহেলিয়াত মোল্লাদের কুকর্ম নিয়ে কথা বলে তখন তাদের অন্ধ মুরিদরা কোন যুক্তি বা তথ্য না দিয়ে এসে বলে, তুই মোদীর লোক, তুই হাসিনার লোক, তুই মালাউন, তুই নাস্তিক, তুই সাহাবাগী, আরো অনেক আজেবাজে গালি ও কথা বলে।
বস্তুত গালি ছাড়া তাদের তো বলার আর কিছুই নাই॥ এদেশের আলেমরা তাদের মুরিদদের যা শিক্ষা দিয়েছে তাই তো এরা বলবে, অথচ অন্ধকুল মুরিদদেরকে কতো অনুরোধ করে বলি, কোরআন থেকে রেফারেন্স দিতে, কিন্তু কোরআন থেকে একটা রেফারেন্সও দিয়ে তাদের কৃতকর্মের বৈধতা দিতে পারে না॥ কারন আল্লাহ আর আল্লাহর আল-কোরআন উপরোল্লিখিত মোল্লাদের হারাম ও বর্বর কৃতকর্মের একটাও বৈধতা দেয় না॥


