
নিজস্ব প্রতিবেদক : ২৪ মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি (এফপিএবি) এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। তারা বিগত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানীর পল্টনস্থ সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।
এফপিএবি’র সভাপতি হারুন অর রশিদ, কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, সোহেল আহমেদ, জামান আহমেদ, কামরুজ্জামান উজ্জল প্রমূখ কর্মকর্তারা পরস্পর যোগসাজশে দুর্নীতির মাধ্যমে সংস্থার অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তারা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দোসর, আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক এমপি ও প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির নিয়োগকৃত দালাল। তারা এফপিএবি-কে কুক্ষিগত করে রেখেছে। তাদের কারণেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘ দুই বছর যাবৎ বেতন পাচ্ছেন না। তারা না খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
১৬ নভেম্বর ২০২৫ রবিবার বিকালে উপরোক্ত অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি (এএফপি) এর আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
আন্দোলনকারীরা বলেন, রবিবার সকালে এফপিএবি’র সভাপতি হারুন অর রশিদ, কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, সোহেল আহমেদ, জামান আহমেদ, কামরুজ্জামান উজ্জল, ঢাকা জেলা শাখার হেলাল আহমেদ জনি এবং নোয়াখালী জেলা শাখার কাউন্সিলর মোঃ নোমান এর নেতৃত্বে একদল ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী অসৎ দলে দলবদ্ধ হয়ে এফপিএবি’র আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা করেছে।
আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, সন্ত্রাসীরা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ফটক ভাঙ্গচুর এবং গাজীপুর শাখার আল-আমিন (ইসিএস), ফরিদপুর শাখার (ড্রাইভার) মাসুদ রানা, প্রধান কার্যালয়ের অফিস সহকারী মোঃ আতিকুর রহমানকে গুরুতর আহত করেছে। এ সময় আন্দোলনরত এফপিএবির নারী কর্মীদের হেনস্থা করা হয়। সন্ত্রাসীরা তাদের ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লাকাড ছিড়ে তান্ডব করে।
তারা আরো বলেন, সন্ত্রাসীরা এফপিএবি’র দিনাজপুর জেলা শাখার কর্মকর্তা মোঃ শাহিনুল ইসলামকে জীবননাশের হুমকি প্রদান করেছে। সভাপতি হারুন অর রশিদ ও তার সহযোগীরা আন্দোলনকারীদের চাকরিচ্যুত করার হুমকি প্রদান করেছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত পল্টন থানার দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সম্মুখেই এই সন্ত্রাসী তান্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অন্দোলনকারীরা অভিযোগ করে বলেন, পরোক্ষভাবে পুলিশ সন্ত্রাসীাদের সহযোগীতা করেছে। পুলিশ সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পদক্ষেপ না নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তারা সমঝোতার নামে সন্ত্রাসীদের সংস্থার ভেতরে প্রবেশ করার সুযোগ করে দিয়েছে; যাতে সন্ত্রাসীরা আন্দোলনকারীদের প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দিতে পারে; যাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন ছাড়াই খালি হাতে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হয়। আমরা কি সমঝোতা করবো? পুলিশ কি আমাদের বেতন দিবে? পুলিশ কি আমাদের বেতন দেওয়ার দায়িত্ব নিতে পারবে?
পল্টন থানার পুলিশ সদস্যরা কেন পক্ষপাতীত্ব করেছে, এমন প্রশ্নের জবাবে আন্দোলনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, শুনেছি পল্টন থানার অফিসার্স ইনচার্জ ফ্যাসিস্ট মেহের আফরোজ চুমকির দোসর এফপিএবির’র কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম এর আত্মীয়। আত্মীয় সম্পর্ক থাকার কারণেই পুলিশের সম্মুখে নজরুল ইসলাম সন্ত্রাসীদেে নিয়ে আমাদের ওপর হামলা এবং আমাদের বকেয়া বেতন পরিশোধ না করে আমাদের অফিস থেকে বের করে দেওয়ার অপচেষ্টা করেছে।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশন (আমসুফ) এর প্রধান উপদেষ্টা সুফি সাগর সামস্ বলেন, পুলিশ বাহিনীর দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা, সমঝোতার পদক্ষেপ গ্রহণ করা নয়। প্রতীয়মান হয় যে, উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা পক্ষপাতিত্ব করেছেন, পরোক্ষভাবে আন্দোলনকারী কর্মচারীদের আন্দোলন বানচাল করে দেওয়ার জন্য অপচেষ্টা করেছেন।
মানবাধিকার কর্মী সুফি সাগর সামস্ এফপিএবি’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য সংস্থার সভাপতির প্রতি আহবান জানান এবং এফপিএবির বিরাজমান সমস্যা সমাধানের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এর পূর্বে গত ২৫ অক্টোবর স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির দায় নিয়ে চলমান আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দোসর, সাবেক রাষ্ট্রদূত, এফপিএবি’র সভাপতি মসয়ূদ মান্নান পদত্যাগ করেন।


