বর্তমানে দেশে ইসলামি শাসন কায়েম এবং অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন, বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুফি সাগর সামস্। তিনি বলেন, এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে আল্লাহ-রসুলের শাসনতন্ত্র বাস্তবায়ন করতে হবে। আল্লাহ-রসুলের শাসনতন্ত্র হলো, মদিনা সনদ। এই সনদ পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান। ৬২২ খ্রি: বিশ্বনবী মুহম্মদ (স) এই সংবিধান প্রণয়ন করেন এবং মহান আল্লাহ অনুমোদন করেন। এই শাসনতন্ত্র সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক উদারচিন্তার বহুত্ববাদী সংবিধান।
অদ্য ১০ অক্টোবর ২০২৫ শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপির কেরানীগঞ্জ থানা শাখার সভাপতি মোঃ এমরান খানের নেতৃত্বে স্থানীয় একটি প্রতিনিধি দল রাজধানীর পুরানা পল্টনে বিএইচপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এসময় দেশের বিদ্যমান রাজনীতি ও শাসনতন্ত্র সম্পর্কিত মতবিনিময়কালে সুফি সাগর সামস্ এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, দেশের মানুষ অনেক দুঃখকষ্ট নিয়ে জীবনযাপন করছে। তাদের একমাত্র আকাঙ্খা অর্থনৈতিক মুক্তি। তারা স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ করেছিল। কিন্তু বাহাত্তরের শোষণতান্ত্রিক সংবিধান অর্থনৈতিক মুক্তির পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের অন্তর্বর্তী সরকারও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে কোনো কমিশন গঠন করেনি। অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন করতে হলে ইসলামি শাসন কায়েম করতে হবে। আর ইসলামি শাসন কায়েম করতে হলে মহান আল্লাহ-রসুলের শাসনতন্ত্রের বিকল্প নেই।
জনগণ জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন এবং ইসলামি শাসন কায়েম করার একটি সুযোগ করে দিয়েছিল। কিন্তু বাহাত্তরের সংবিধানের অধীনে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করার কারণে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিএইচপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
সুফি সামস্ বলেন, জনগণ যেভাবে একাত্তরে বঞ্চিত হয়ে শূন্যহাতে দুর্ভীক্ষের মহামারি নিয়ে ঘরে ফিরেছিল, একইভাবে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের পর মবজাস্টিজ, হত্যা, খুন, হানাহানি, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, ধর্ম-বিদ্বেষ আর আতঙ্ক নিয়ে ঘরে ফিরেছে। কর্ম হারিয়ে বেকার হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। মাসের পর মাস বেতন না পেয়ে ক্ষুধাযন্ত্রণা নিয়ে শ্রম ভবন প্রাঙ্গনে মাতম করছে নারী-পুরুষ। এসব থেকে মুক্তি পেতে হলে আল্লাহ-রসুলের সংবিধানকে বুকে ধারণ করে জনগণকে আবার ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ জাতি অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে।
আল্লাহ-রসুলের শাসনতন্ত্র বাস্তবায়ন ছাড়া কখনোই জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না বলে মতবিনিময় সভায় মন্তব্য করেন সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ইব্রাহিম খলিল বাদল। তিনি বলেন, বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপি আল্লাহ-রসুলের শাসনতন্ত্রের আলোকে ইসলামি রাষ্ট্র গঠন করতে চায়। যেখানে মানুষ ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি এবং ধর্ম-বিদ্বেষে লিপ্ত হবে না, অর্থনৈতিক বৈষম্য থাকবে না, থাকবে শুধুই মানবতা।
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপির প্রেসিডিয়াম সদস্য মোঃ ফজলুল বারী, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ইব্রাহিম খলিল বাদল, মোঃ আয়ুব আলী ও মোঃ রেজাউল করিম, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ফরিদ আহমেদ, দফতর সম্পাদক মোঃ খুরশীদ আলম সরকার, কেরাণীগঞ্জ থানার সভাপতি মোঃ এমরান খান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন।


