মহানগর ডেস্ক

প্রতিদিনের মতোই শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিকগুলোতে স্থান পেয়েছে অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য, বিচারব্যবস্থা ও শিক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ খবর। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন সরকারের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ, ঢাকায় মশার বাড়বাড়ন্ত, চট্টগ্রামে আদালতের অবকাঠামো সংকট এবং শিক্ষায় বড় সংস্কার পরিকল্পনা—এসব ইস্যুই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
অর্থনীতি: চাপের মুখে নতুন সরকার
বিভিন্ন পত্রিকার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে—ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকারের ধারাবাহিকতায় সদ্যবিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও অর্থনীতি প্রত্যাশিত গতি পায়নি; বরং কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে ভঙ্গুরতা, বিনিয়োগে স্থবিরতা, বড় রাজস্ব ঘাটতি এবং উচ্চ সুদের হারে বেসরকারি খাতের দুরবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, একের পর এক কারখানা বন্ধ হওয়া, কর্মসংস্থানে ধাক্কা, ব্যবসায়ীদের আস্থাহীনতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব ঘাটতি পুষিয়ে নিতে ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে।
তবে সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বিভিন্ন সময়ে দাবি করেছেন, ‘খাদের কিনারা’ থেকে অর্থনীতিকে টেনে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতন ঠেকানো গেছে, রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে এবং ডলার সংকট কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন সরকারের জন্য অগ্রাধিকার হওয়া উচিত—উদ্যোক্তাদের আস্থার সংকট দূর করা, ঋণের সুদের হার কমানো, আমদানি-রফতানি বাড়ানো, সহজ শর্তে বৈদেশিক ঋণ সংগ্রহ এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য গতিশীল হয়ে রাজস্ব আয় বাড়তে পারে।
ঢাকায় মশার দাপট: ৯০ শতাংশই কিউলেক্স
রাজধানীতে মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশারের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে মশার সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই কিউলেক্স প্রজাতির।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিনটি কারণে এবার মশার প্রকোপ বেশি:
-
শীতের মাত্রা কম এবং আগেভাগেই শীত বিদায়
-
নর্দমা ও জলাশয়ের দূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা
-
রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে জনপ্রতিনিধির অভাবে কার্যকর মশকনিধন কর্মসূচির স্থবিরতা
মার্চ মাসে মশার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হয়েছে।
চট্টগ্রামে আদালতে কক্ষ সংকট, ৩৫ হাজার কোটি টাকার মামলা ঝুলে
চট্টগ্রামের দুটি অর্থঋণ আদালতে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণের বিচার চলছে। ৮০টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এসব মামলা পরিচালনায় অবকাঠামোগত সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে।
নিয়ম অনুযায়ী দুই বিচারকের জন্য পৃথক এজলাস ও খাস কামরা থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে একটি এজলাস ও একটি খাস কামরা ভাগাভাগি করে বিচারিক কার্যক্রম চলছে। সকালে এক বিচারক কাজ শেষ করলে দুপুরে একই কক্ষে ওঠেন অন্য বিচারক।
একই অবস্থা চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের ছয় যুগ্ম জজ আদালতেও। নতুন করে ২৯ বিচারকের পদ সৃষ্টি করে পদায়ন করা হলেও পর্যাপ্ত কক্ষ ও এজলাস না থাকায় বিচারকাজে বিলম্ব হচ্ছে। আদালত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবকাঠামোগত সংকট দ্রুত কাটার সম্ভাবনা কম।
শিক্ষায় জিডিপির ৫% বরাদ্দ, ১২ এজেন্ডা ঘোষণা
শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দসহ ১২ দফা নীতিগত এজেন্ডা ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এসব পরিকল্পনা তুলে ধরেন। উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এজেন্ডার মধ্যে রয়েছে:
-
মাধ্যমিকে কারিগরি শিক্ষা ও খেলাধুলা বাধ্যতামূলক
-
বাংলা ও ইংরেজির বাইরে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা
-
‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি
-
উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় ইনোভেশন গ্র্যান্ট
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে শিক্ষা খাতকে ব্যয়ের খাত নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রধান বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হবে।
সামনে পথচলা
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক চাপ, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি, বিচারব্যবস্থার অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও শিক্ষা সংস্কারের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য—সব মিলিয়ে নতুন সরকারের সামনে রয়েছে বহুস্তরীয় চ্যালেঞ্জ। কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই নির্ধারণ করবে পরিস্থিতির গতি কোন দিকে মোড় নেয়।








